ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বন্দরের দক্ষতা ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা

ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি
বন্দরের দক্ষতা ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তিতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো গেলে পণ্য খালাসে বিলম্ব কমবে, আমদানি-রপ্তানি ব্যয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো শুধু বন্দর ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো গেলে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে বিনিয়োগ অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন ফজলুল হক। তার মতে, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝা যায় আন্তর্জাতিক তুলনামূলক চিত্র থেকে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ৪০০ বন্দরের মধ্যে দক্ষতা সূচকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৬৪তম। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বন্দরে একটি জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সমসাময়িক অনেক বন্দরে এ সময় ১৫ থেকে ২৪ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনারের অবস্থানকাল প্রায় ৯ দিন, যেখানে তুলনীয় বন্দরে তা সর্বোচ্চ আড়াই দিন। জাহাজ ও কনটেইনারের দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এ বিলম্বের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বন্দরে কনটেইনারের অবস্থানকাল এক দিন কমানো সম্ভব হলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫ শতাংশ এ টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এনসিটির পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো গেলে বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও গতি আসতে পারে। সরকার এনসিটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, জাহাজের আগমনের সময়সূচি সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও পণ্য পরিবহনের প্রস্তুতি, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং শুল্কায়নসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত কনটেইনার টার্মিনাল থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করবে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত