ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঈদ শুধু আনন্দ নয়, ইবাদতও

দিদার শফিক
ঈদ শুধু আনন্দ নয়, ইবাদতও

ঈদ মুসলমানদের একটি ধর্মীয় উৎসব। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। এ আনন্দ ও খুশির সঙ্গত কারণ আছে। আনন্দ প্রকাশের নিয়ম, ধরন ও মাত্রা আছে। যে কোনো ধরনের আনন্দই ঈদের আনন্দ নয়। আবার হালাল হারাম, বৈধ-অবৈধ বাছবিচার ছাড়া আনন্দ প্রকাশের যেকোনো উপকরণ ও বিনোদন গ্রহণের অনুমোদন নেই ইসলামি শরিয়তে। কারণ ঈদ নিছক আনন্দের উৎসব নয়। ঈদ ইবাদতেরও বড় একটি অংশ। ভুলে গেলে চলবে না এটি মুসলিম উম্মাহর বিশেষ ধর্মীয় উৎসব। ঈদ মুসলমানদের সংস্কৃতি। তাই ইসলামি শরিয়ত ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকেই ঈদ উদযাপন করতে হবে।

ঈদুল ফিতরের মূল আবেদন : মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের আগমন ঘটে। ঈদুল ফিতরের এ বিশেষ দিনটি আল্লাহ বান্দাকে দিয়েছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা নিবেদনের জন্য। মহান রব দয়া করে বান্দাকে রমজানের সবকটি রোজা রাখার এবং তার ইবাদতে পুরো একটি মাস কাটানোর তৌফিক দিয়েছেন, এটা আল্লাহর বড় কৃপা বান্দার উপর। আর বান্দা ইবাদতের সুযোগ পেয়ে ধন্য। তাই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করা ঈদুল ফিতরের মূল আবেদন ও তাৎপর্য। রমজান মাসে রোজা রাখতে পেরে এবং আল্লাহর ইবাদত করার বিশেষ ও অবারিত সুযোগ পেয়ে মোমিন হৃদয়ে আনন্দের যে দোল খাওয়া সমীরণ বয়ে যায়, ঈদুল ফিতর হলো সেই আনন্দ প্রকাশ করার উৎসব।

কেমন হবে ঈদের আনন্দ : ঈদুল ফিতরের আনন্দের প্রকাশ শুরু হয়ে যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখার পর থেকে। আর এর পূর্ণতা পায় দলে দলে ঈদগাহে হাজির হয়ে মহান রবের কৃতজ্ঞতায় সালাত আদায়ের মধ্য দিয়ে। মহান রবের মহিমা ও বড়ত্বের ঘোষণা দিয়ে তাকবির পাঠ করা এবং সিয়ামসাধনা যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয় সেজন্য একে অপরের কাছে দোয়া চাওয়া ঈদুল ফিতরের অন্যতম কাজ। এটা তাৎপর্যপূর্ণ আনন্দেরও বহিঃপ্রকাশ। ঈদের দিন মুসল্লিগণ ঈদগাহে যায়। নতুন টুপি, নতুন পাঞ্জাবি পরে। ঈদগাহে ইমামের বয়ান শোনে। নামাজ পড়ে। নামাজ শেষে কোলাকুলি করে। এ সবই ইবাদত মিশেল আনন্দ প্রকাশ। ঈদের দিন একটি দোয়া পড়ে এক মুসলিম অপর মুসলিমের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবে। যা সাহাবায়ে কেরাম পড়তেন। ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ অর্থাৎ আল্লাহ কবুল করুন- রমজান মাসে ও আজকের দিনে করা আমাদের ও তোমাদের সমস্ত নেক আমল।

পূববর্তী নেককার মুসলিমদের ঈদ : পূর্ববর্তী নেককার মুসলিমগণ ছিলেন পাক্কা ঈমানদার। তারা গোনাহ বর্জন করে চলতেন। নেক আমলে খুব গুরুত্ব প্রদান করতেন। এ জাতীয় নেককার বান্দাদের সালাফে সালেহীন বলা হয়। তারা ঈদকে ইসলামের অন্যতম সম্মানিত দিন হিসেবে পালন করতেন। বিভিন্ন হারামে জড়িয়ে এ দিনের পবিত্রতা লঙ্ঘন করতেন না। কোনো কর্তব্য কাজে শিথিলতা করেননি। তারা এ দিনটিতে নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন জায়েয খাবার ও পানীয় এবং পরিমিত ও পরিমার্জিত সাজসজ্জার মধ্যে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত