ঢাকা সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

‘মানুষ ভাবে ক্রিকেট খেলা খুব সহজ’

‘মানুষ ভাবে ক্রিকেট খেলা খুব সহজ’

এক সময় জাতীয় দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে গত বছর সব ফরম্যাট থেকে অবসরে চলে গেছেন এই অলরাউন্ডার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন তিনি। খেলছেন চলমান বিপিএলেও। সেখানে আগের দিনের ম্যাচটির প্রসঙ্গ উঠল সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই। মুখ টিপে হাসলেন মাহমুদউল্লাহ। যেন ধরেই নিয়েছিলেন, এমন প্রশ্ন আসবে। জয়ের জন্য ১ বলে প্রয়োজন ছিল ১ রান। তিনি পারেননি সেই রানটি নিতে। পরদিন সেই তিনিই কার্যকর এক ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ। এবার কৃতিত্ব তিনি পাচ্ছেন। কিন্তু আগের দিনের সমালোচনাগুলোও তার মনে দাগ কেটে আছে। সেই অভিমান, ক্ষোভ ও হতাশা, সবই ফুটে উঠল অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্জের বিপক্ষে গত বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ বলে এক রান দরকার ছিল রংপুর রাইডার্সের। কিন্তু রিপন মন্ডলের লো ফুল টস ডেলিভারি সোজা ফিল্ডারের কাছে মারেন মাহমুদউল্লাহ। দৌড়ে সিঙ্গল নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হয়ে যান। ম্যাচ হয় ‘টাই।’ পরে সুপার ওভারে হেরে যায় রংপুর। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনেকটা এভাবেই শেষ ওভারে মুঠোয় থাকা জয় ফসকে গিয়েছিল বাংলাদেশের। সেখানেও শেষ সময়ে গিয়ে দলকে হতাশায় ডুবিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ১০ বছর আগের মতো এবারও সমালোচনার তির ছুটে যায় তার দিকে। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে গত শুক্রবার শেষ ৫ ওভারে ৪৯ রান প্রয়োজন ছিল রংপুরের। মাহমুদউল্লাহর রান ছিল তিন বলে তিন। সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজের টানা চার বলে তিনটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কায় সমীকরণ সহজ করে ফেলেন তিনি। পরে রংপুর জিতে যায় বেশ সহজেই। ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হন তিনি।

আগের দিন ব্যর্থ, পরের দিন সফল। মাহমুদউল্লাহ বললেন, তিনি যে পজিশনে ব্যাট করেন, সেখানে এরকম কিছুই স্বাভাবিক। ‘১ বলে ১ রান অনেক কিছুই বলা খুব সহজ। তবে ডেলিভার করতে না পারা এটা অনেক সময় হয়, অনেক সময় হয় না। মানুষ অনেক সময় ভাবে যে ক্রিকেট খুব সহজ। বিশেষ করে, টি-টোয়েন্টিতে যারা লেট মিডল অর্ডারে ব্যাট করে, তারা খুব ভালো করেই জানে যে, তাদের পজিশন কতোটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কতোটা বিপজ্জনক। ওই পজিশনে ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়া সহজ নয়। দলের জন্য যতটুকুই করার চেষ্টা করেন- কখনও সফল হবেন, কখনও ব্যর্থ।’

মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে অভিমানের সুর ধরা পড়ল পরিষ্কারভাবেই। সেই সুর ধরেই উঠে এলো পুরোনো একটি প্রসঙ্গ। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর তিনি বলেছিলেন, অনেক কিছুই বলার আছে তার, যা বলবেন সময় হলে। সেই মাহমুদউল্লাহ এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ থেকেই অবসরে চলে গেছেন। তার কাছে প্রশ্ন ছুটে গেল, এখন কি তাহলে মনের আগল খোলার সময় হলো? ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বললেন, সময়টা এখনও আসেনি। আবারও তার কথায় মিশে থাকল অভিমানের সুর। ‘আমার মনে হয়, এটা উপযুক্ত মঞ্চ নয়। বলার অনেক কিছুই ছিল এবং ওটা ‘মিন’ করেই বলেছিলাম। কারণ, (একটু থেমে) আমি বিনয়ী থাকতে চাই, আক্রমণাত্মক হতে চাই না। কারণ এটা সঠিক মঞ্চ নয়। বলার অনেক কথাই ছিল এবং ওটা মিন করেই বলেছিলাম, সঠিক সময়ে সুযোগ এলে অবশ্যই বলব। যে জিনিসগুলো আমার সঙ্গে হয়েছিল, হয়েছে অবশ্যই বলব।’

বলতে না চেয়েও অবশ্য কিছু কথা ঠিকই বললেন মাহমুদউল্লাহ। কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি সংবাদমাধ্যমকে। ‘আই অ্যাম অ্যাবসলিউটলি ফাইন যে কেউ সমালোচনা করতেই পারে, যে কেউ আপনাদের (সংবাদকর্মী) কাজ হচ্ছে রিপোর্ট করা। আপনারা একটা জিনিস নিয়ে বিশ্লেষণ করবেন, বলবেন। কিন্তু আমার মনে হয়, সবকিছুরই একটা সীমা থাকে। কখনও কখনও আমি বিশ্বাস করি, ওই সীমানা সবাই পার করে ফেলে। অনেক সময় অনেক ক্রিকেটার এই সমালোচনা গ্রহণ করতে পারে না। তাদের মনোবলেও অনেক সময় হয়তো চিড় ধরায়। তবে দিনশেষে তো আপনি জানেন, আপনার কতটুকু সামর্থ্য আছে। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, কেউ যদি তার কাজের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সৎভাবে কাজ করে, আজ হোক বা কাল, আল্লাহ ফল দেবেন।;

অনেক কিছু বলেও মাহমুদউল্লাহ বললেন, কথা বলে লাভ নেই। ‘আমি খুব একটা ‘আউটস্পোকেন’ নই, আপনারা সবাই জানেন। এজন্যই শুরুত বললাম, বিনয়ী থাকা প্রয়োজন আমার এবং আমি চাই বিনয়ী থাকতে। এটাই আমি পছন্দ করি। কারণ আল্লাহ সেটা পছন্দ করে এবং আমি সত্যিই বিশ্বাস করি। কথা বলে তো লাভ নেই। যদি ওপরওয়ালা সম্মান দেন, তাহলে ওই সম্মান তো কেউ আটকে রাখতে পারবে না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত