ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

আকুর তৎপরতায় বিসিবির স্বস্তি

আকুর তৎপরতায় বিসিবির স্বস্তি

বিপিএলে অ্যান্টি করাপশন ইউনিট আকুর তৎপরতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ম্যানেজারকে না জানিয়ে খেলোয়াড়ের রুমে ঢুকে যাওয়া, ব্যাটিংয়ে নামার আগে জেরার মুখে ফেলা! ঢাকার এসব অভিযোগে আকুর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আকুর কড়াকড়িকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও প্রক্রিয়া সঠিক যেন হয় এটার নিশ্চয়তা চান রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হান্নান সরকার। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আউটার মাঠে গতকাল শনিবার অনুশীলন করে রাজশাহী। এর মধ্যে সাংবাদিকের মুখোমুখি হন হান্নান। এ সময় তাকে ঢাকার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। যেখানে উল্লেখ করা ৩০ জনের মোবাইল সিজ করার বিষয়টিও। এ প্রসঙ্গে হান্নান বলেন, ‘সত্যি বললে এবার অনেক কড়াকড়ি রয়েছে এটা সত্য। কারণ এর আগে আমি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি, কোচ হিসেবে কাজ করেছি। যখন এন্টি করাপশন ইস্যুটা এসেছে তখন দেখেছি যেভাবে সামলানো হতো এবার তার চেয়ে একটু আলাদাভাবে করা হচ্ছে। কড়াকড়ি করার ব্যাপারে কিন্তু আমরা সবাই ইতিবাচক এবং আমার মনে হয় সেটা প্রশংসা করা উচিত। কিন্তু যেটাই ঘটবে, যেটাই ঘটানো হবে বা যেটাই দেখা হবে সেটা প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে নিয়মের মধ্যে থেকে করা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার যে বিষয়টা কালকে দেখলাম সংবাদ সম্মেলন করেছেন উনারা। যে বিষয়গুলো শুনেছি বা দেখেছি এই বিষয়টা সম্পর্কে আমি খুব বিস্তারিত বলতে পারব না। কিন্তু সেটা যদি আমাদের এন্টি কারাপশন ইউনিটের গাইডলাইন অনুযায়ী বা তাদের প্রসেসের মধ্যে থেকে হয় সেটাকে আমি এড়িয়ে যাওয়ার করার সুযোগ নেই।’ তবে ব্যাটিংয়ে নামার আগে কোনো ক্রিকেটারকে জেরা করা যায় কি না বা কোনো খেলোয়াড়ের রুমে না বলে ঢোকা যায় কি না এমন প্রশ্নে প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে তাগিদ দেন হান্নান। রাজশাহীর এই হেড কোচ বলেন, ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যেটা সেটা যদি অনুসরণ করা হয় বা তাদের যদি প্রসেসের মধ্যে থেকে সেভাবে দেখা হয়... এমনকি আমার দলের ক্ষেত্রেও যদি আসে সেটা আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। তবে নিয়মের মধ্যে থেকে যেটা রয়েছে সেটা করলে আর কোনো দ্বিধা বা কোনো সংশয় আসে না।’

ড্রেসিংরুমে জেরা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই কারো রুমে সার্চ করা, কারো মোবাইল সার্চ করা, যেকোনোভাবে উনাদের (আকু) অধিকার রয়েছে। কিন্তু তারও একটা নিয়ম রয়েছে। আমি যতটুকু জানি যে ম্যানেজারকে জানিয়ে সেটা করতে হয়। যদি সেটা করে থাকে তাহলে সেটা নিয়ে আর সেকেন্ড কোনো প্রশ্ন আসা উচিত না।’ তবে ম্যাচ চলাকালীন হস্তক্ষেপ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন হান্নান। তিনি বলেন, ‘খেলার মধ্যে যদি একাদশে আছে, ব্যাটিংয়ে নামবে এমন কাউকে কোনো প্রশ্ন করতে হলে অবশ্যই ম্যানেজারের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার দলে (এই প্রক্রিয়া না মানা হলে) এই ধরনের পরিস্থিতি আসলে নিশ্চিতভাবেই আমি এটা এলাও করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচ শেষে উনারা অবশ্যই সেটা ফলোআপ করতে পারেন। তবে দিনশেষে আমি এটাই বলব নিয়মের মধ্যে তাদের কাছে লিখিত কিছু নিয়মটা রয়েছে...আমাদের আসলে স্বাভাবিকভাবে বিস্তারিত অত পড়া হয় না। কিন্তু যদি এটা নিয়মের মধ্যে থাকে সেই নিয়মটা যদি আমাদের দেখিয়ে দেয় তাহলে জিনিসটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ বিভিন্ন দলের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হান্নান বলেন, ‘আসলে অভিযোগগুলো কিন্তু আমরা মিডিয়ার মাধ্যমেই জানতে পারছি। বিভিন্ন দল থেকে তাদের জায়গা থেকে হয়তো অভিযোগগুলো উপস্থাপন করছে। আমাদের দলে এখন পর্যন্ত আমরা সেই ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি বা আমাদের দলে এই ধরনের কোনো পরিস্থিতি আমাদের ফেস করতে হয়নি। যখন পর্যন্ত আসলে নিজের সঙ্গে কোনো কিছু না ঘটে তখন সেটা সম্পর্কে খুব বেশি বিস্তারিত বলা কঠিন।’

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিট এবার জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে ফিক্সিং রোধে। ক্রিকেটারদের তো বটেই, কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট এমনকি মালিকপক্ষের কাউকে সন্দেহ হলেই জেরা করছে। যা পছন্দ হচ্ছে না অনেকেরই। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রায় সব ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন জব্দ করে পরীক্ষা করে ইন্টেগ্রিটি ইউনিট। সব কিছু অনেকের কাছেই বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। তবে এই বাড়াবাড়িতে ভালো কিছু হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে। আগের থেকে সন্দেহপ্রবণ ঘটনা কম হচ্ছে বলে দাবি করলেন বিসিবির পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘ইন্টেগ্রিটি ইউনিট গাইডলাইন ও কোডের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করছে না।’ গতকাল শনিবার ইফতেখার রহমান বলেছেন, ‘অ্যান্টি করাপশন স্বাধীন ইউনিট। আমরা তাদের সাহায্য নিচ্ছি। এ ছাড়া আমরা আইসিসি থেকে সাবেক অ্যান্টি করাপশন ম্যানেজারকে নিয়োগ দিয়েছি। যারা আলাদাভাবে একই কাজ করছে।

তারা অ্যান্টি করাপশনের যে গাইডলাইন ও কোড আছে সেটা মেইনটেন করেই অপারেশনাল কাজ করছে। এটা বিশ্বকাপে যেভাবে হয়, অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যেটা হয় বাংলাদেশে সেটাই অনুসরণ করছে।’ বাড়াবাড়ি হচ্ছে কি না এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইফতেখার যোগ করেন, ‘বাড়াবাড়ি হচ্ছে আপনার উপরে। আমরা যেটা নিশ্চিত হয়েছি, তারা অ্যান্টি করাপশন যেই কোড এবং ম্যানুয়েল দেখে সেভাবেই শতভাগ কাজ করছে।’

আগের থেকে সন্দেহপ্রবণ ঘটনা কম হচ্ছে দাবি করে ইফতেখার রহমান বলেন, ‘কিছু কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ক্রিকেটের দুর্নীতি মনিটর করে। তাদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহপ্রবণ ঘটনা তীব্রভাবে নিচে নেমে গেছে। অ্যালেক্স মার্শাল নির্দিষ্ট করে নাম্বারটা বলতে পারবেন। তবে আমি যতটুকু জানি, অনেক অনেক কমে গেছে।

তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যেভাবে চাইবে সেভাবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু তারা গাইডলাইন ও কোডের বাইরে কিছু করছে না। এখন কারো পছন্দ না হলে এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এমনি এমনি তো কারো ফোন নেয় না। এটা পার্ট অব মনিটরিং। আমার ফোনও চাইতে পারে। সেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত