
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২১তম ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং লড়াই উপভোগ করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। গতকাল রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল উত্তরাঞ্চলের দুই ফ্র্যাঞ্জাইজি রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। প্রথমে রংপুরের হয়ে ব্যাট হাতে লড়াকু ইনিংস খেলেন তাওহীদ হৃদয় ও খুশদিল শাহ। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা হৃদয় অল্পের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হন। তার ও খুশদিলের ব্যাটে চড়ে রংপুর রাইডার্স বড় পুঁজি পেলেও তা যথেষ্ট হলো না।
রান তাড়ায় মুহাম্মদ ওয়াসিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফিফটি ছুঁয়ে গড়লেন প্রায় দেড়শ ছোঁয়া জুটি। ফলে ৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের অনায়াস জয় পেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এবারের বিপিএলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার রংপুরকে হারাল রাজশাহী। টস হেরে আগে ব্যাট করে তাওহিদ হৃদয়ের অপরাজিত ৯৭ ও খুশদিল শাহর ৪৪ রানের দুটি ইনিংসে ভর করে রংপুর তুলেছিল ৪ উইকেটে ১৭৮ রান। জবাবে ৫ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই সে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় রাজশাহী।
যদিও রাজশাহীর রান তাড়ার শুরুটা ছিল হোঁচট খেয়ে। তৃতীয় ওভারে আউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান (৭ বলে ৩)। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের ওপেনার এই টুর্নামেন্টের সাত ইনিংসে ৩০ ছুঁতে পারলেন না একবারও। শান্ত তিনে নেমে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মারেন হুক শটে। আরেকপ্রান্তে ওয়াসিমও জ্বলে ওঠেন। চার-ছক্কা আসতে থাকে দুজনের ব্যাটেই। কিছুটা মন্থর শুরুর পরও পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে ৬২। পাওয়ার প্লে শেষেও দুজনের ব্যাটের তাপট শেষ হয়নি। রংপুরের কোনো বোলার অস্বস্তিতে ফেলতে পারেননি দুই ব্যাটসম্যানের একজনকেও। ৩২ বলে ফিফটি করে ওয়াসিম, ২৮ বলে শান্ত। একাদশ ওভারে দলের রান পেরিয়ে যায় একশ। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এই জুটিতেই খেলা শেষ হবে। তবে শান্তর বিদায়ে শেষ হয় সেই সম্ভাবনা। পরে ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান প্রথমবার খেলতে জিমি নিশামও। ওয়াসিম ফেরেন কাজ শেষ করে।
সাহিবজাদা ফারহানের বদলি হিসেবে চার ম্যাচের জন্য আনা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটসম্যানকে। তিন ম্যাচে নেমে দুটিতেই তিনি খেললেন ম্যাচণ্ডজেতানো ইনিংস। ওয়াসিম ৫৯ বলে করেন অপরাজিত ৮৭ রান। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। ফলে ১৯.১ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছায় রাজশাহী।
রংপুরের পক্ষে পাকিস্তানি পেসার আকিফ জাভেদ ২ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৪৩ রান। অন্য শিকারটি ধরেন মোস্তাফিজুর রহমান। রংপুরের ইনিংস এগিয়ে চলে হৃদয়কে ঘিরে। তার ইনিংসে পরিষ্কার ভাগ ছিল তিনটি-প্রথম পাঁচ ওভার, মধ্যের ১০ ওভার আর শেষের পাঁচ ওভার। শুরুতেই তার ব্যাটে ছিল ঝড়। প্রথম পাঁচ ওভারে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় রান করেন তিনি ১৮ বলে ৩৪। এরপর তার ব্যাট যেন ঘুমিয়ে পড়ে। পরের ১০ ওভারে আর কোনো বাউন্ডারি আসেনি তার ব্যাট থেকে। শেষের পাঁচ ওভারে আবার উত্তাল হয়ে ওঠে তার ব্যাট। কিন্তু শতরানের ঠিকানা ছুঁতে পারেননি।
ম্যাচ শুরু করেন প্রথম তিন বলেই এসএম মেহরবের অফ স্পিনে বাউন্ডারি পেরে। পরের চার ওভারেও সেই বাউন্ডারির স্রোত বইতে থাকে। আরেক ওপেনার কাইল মেয়ার্স (৬ বলে ৮) বিদায় নেন রিপন মন্ডলের বলে জিমি নিশামের দারুণ ক্যাচে। হৃদয়ের সৌজন্যে পাওয়ার প্লেতে রান তোলে তারা ৫৪। অধিনায়ক লিটন দাস ১৪ বলে ১১ করে আউট হন সান্দিপ লামিছানের বলে বাজে শটে। টুর্নামেন্টের সাত ম্যাচেও কোনো ফিফটি নেই তার। ইফতিখার রহমান ৮ রান করতে বল খেলেন ১৫টি। হৃদয়ও তখন পারেননি রানের গতি বাড়াতে। টানা পাঁচ ওভারে আসেনি বাউন্ডারি।
রানের গতিতে একটু দম দেন খুশদিল শাহ। প্রথম বলেই বাউন্ডারিতে তিনি শুরু করেন। ছক্কা ও চার মারেন লামিছানেকে। ষোড়শ ওভারে ফিফটি ছোঁয়ার পর আবার জেড়ে ওঠেন হৃদয়। পরের চার ওভারে ছক্কা মারেন তিনি পাঁচটি। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ও তানজিম হাসানের বলে পয়েন্টের ওপর দিঙে ছক্কা দুটি ছিল দারুণ নান্দনিক। রিপনে করা ১৯তম ওভারে হৃদয়ের দুটি ও খুশদিলের দুটি ছক্কায় রান আসে মোট ২৮। হৃদয় শেষ ওভার শুরু করেন ৯২ রান নিয়ে। জিমি নিশামের ওভারের প্রথম বলকে পাঠান বাউন্ডারিতে। পরেরবলে নেন এক রান। স্ট্রাইক পেয়ে খুশদিল মারেন বাউন্ডারি। পরের বলে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় আউট হয়ে যান এই পাকিস্তানি (২৯ বলে ৪৪)।
জুটিতে আসে ৫১ বলে ১০৫ রান। চলতি আসরে চতুর্থ উইকেটে প্রথম শতরানের জুটি এটি। ওভারের পঞ্চম বলে আলতো করে ব্যাট ছুঁইয়ে একটি রান নতুন ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ক্রিজে গিয়ে নিয়ে হৃদয়ে সুযোগ করে দেন তিন অঙ্ক ছোঁয়ার। প্রয়োজন ছিল এক বলে তিন রান। কিন্তু ফুল লেংথ ডেলিভারিতে তার শটে বোলার নিজেই ফিল্ডিং করেন। মাঠে ব্যাট ছুড়ে মারার ভঙ্গি করে হতাশায় মাঠ ছাড়েন হৃদয়। শেষ ৫ ওভারে ৭৪ রান তোলে রংপুর। কিন্তু সেই রান মাড়িয়ে যান ওয়াসিম-শান্তরা।