
দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটসালের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। গতকাল বুধবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের নন্থাবুরি স্টেডিয়ামে শুরু হলো প্রথম সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী ম্যাচেই ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই হলো জমজমাট। কেউই পেল না জয়সূচক গোলের দেখা। ড্র দিয়ে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করল ভারত ও বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ৪-৪ ড্র করেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ দুই দল শেষ করেছিল ২-২ সমতায়। ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দারুণ কিছুর ইঙ্গিতই দিচ্ছিল বাংলাদেশ। এ অর্ধে গোল হয়েছে চারটি। নবম মিনিটে রাহবার খানের পাস ধরে ডান দিক থেকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন মঈন আহমেদ। একটু পরই আনমোল অধিকারী সমতার স্বস্তি এনে দেন ভারতকে।
বিরতির বাঁশি বাজার একটু আগে হয় আরও দুই গোল। ষোড়শ মিনিটে মঈনের পাস থেকে গোল করেন রাহবার। এরপর ভারতের লালসোয়ামপুইয়ার শট বাংলাদেশের তুহিনের পায়ে লেগে গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করে খুঁজে নেয় জাল। দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই চলতে থাকে একই গতিতে। ২৭তম মিনিটে লালরিনজুয়ালার শট বুক দিয়ে জালে ঠেলে দ্বিতীয়ার্ধে ভারতকে এগিয়ে নেন রোলুয়াপুইয়া। একটু পর দূরূহ কোণ থেকে মঈনের লক্ষ্যভেদে সমতায় ফিরে বাংলাদেশ। এরপর ৩৬তম মিনিটে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান গোলকিপার। সতীর্থের পাস ধরে ফাঁকা জালে অনায়াসে বল জড়িয়ে দেন রোলুয়াপুইয়া। ফের এগিয়ে যায় ভারত।
নাটকীয়তার তখনও বাকি। ভারতের আনমোল তালগোল পাকিয়ে বল হারালে পেয়ে যান অধিনায়ক রাহবার। দারুণ ক্ষিপ্রতায় বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করে ৪-৪ সমতায় ফেরান দলকে। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী শুক্রবার মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের। ফুটসালে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দলই এখন পর্যন্ত পরাশক্তি হয়ে ওঠেনি। তবে নেপাল, মালদ্বীপ ও ভারত বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। মূলত এই ফরম্যাটে খেলার অভিজ্ঞতা বেশি থাকার কারণে তারা ফেভারিটের তকমা পাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভুটান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এখনও নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ইরানি কোচ সাঈদ খোদারা হমির অধীনে বাংলাদেশ দল এখন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে এএফসি ফুটসাল এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে খেলাটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। যদিও সেখানে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে হারতে হয়েছিল। তবে এবার প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখেনি বাংলাদেশ। দেশে দেড় মাসের ক্যাম্প শেষে থাইল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সেখানে ১০ দিনের বিশেষ অনুশীলন করেছে রাহবাররা।