ঢাকা রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সাফ নারী ফুটসালে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

সাফ নারী ফুটসালে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আরও একটি সোনালি অধ্যায় যোগ করল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে সাবিনা খাতুনের দল। সাবিনার নেতৃত্বে ২০২২ সালে প্রথমবার মেয়েদের সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। পরেরবার তারই নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার সাফ শিরোপা জিতে নেয় মেয়েরা। এবার ফুটসালেও বাংলাদেশ নারী দলকে প্রথম শিরোপা জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবিনা, করেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৪ গোল। গতকাল রোববার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নানথাবুরি ইনডোর স্টেডিয়ামে লিগ পদ্ধতির শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন সাবিনা খাতুনরা।

মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। হলোও তাই। টুর্নামেন্টে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের মেয়েরা লিগ পর্বের শেষ খেলায় মালদ্বীপকে বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য এক অর্থে ছিল ফাইনাল। সেই ফাইনাল জিতে নিলেন সাবিনা খাতুনরা। আর তাতে প্রথমবার সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ৬-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের জালে আরও ৮ গোল দেয় বাংলাদেশ। এই অর্ধেও বিপরীতে এক গোল হজম করেন সাবিনারা। সর্বোচ্চ চার গোল করেন অধিনায়ক সাবিনা। টুর্নামেন্টে ১৪ গোল নিয়ে শেষ করলেন ফুটবলে দেশের জার্সিতে দুটি সাফ জেতা কিংবদন্তী এই ফুটবলার। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোল করে জিতেছেন সেরা গোলদাতার পুরস্কার। বড় জয়ে হ্যাটট্রিক রয়েছে লিপি আক্তারের। এর আগেও এক ম্যাচে গোল পেয়েছিলেন তিনি। জোড়া গোল পেয়েছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে সাত গোল করেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ড। মালদ্বীপের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে একবার করে জালের দেখা পান মাসুরা পারভীন, নওশন জাহান নিতি, সুমাইয়া মাতসুশিমা, নিলুফা ইয়াসমিন নিলা ও মেহেনুর আক্তার। সাত দলের টুর্নামেন্টে পাঁচ জয় এবং এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। একমাত্র ভুটানের বিপক্ষেই ড্র ছিল সাবিনাদের। এর আগে ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু; এরপর নেপালকে ৩-০, শ্রীলঙ্কাকে ৬-১ এবং পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে হারানোর পর শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে আরও বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ ফুটসালের মুকুট পড়লেন সাবিনারা।

ম্যাচের শুরুতেই মাসুরা পারভীনের ভুলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। একটু পরই ফ্রি কিক থেকে সরাসরি গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সাবিনা। বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোরও শুরু এখান থেকেই। এরপর সার্কেলে কৃষ্ণা রানী সরকার ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ, কিন্তু পোস্টের বাইরে শট নিয়ে হতাশ করেন সাবিনা। কিছুক্ষণ পর সার্কেলের বাইরে থেকে ফ্রি কিক থেকেই ব্যবধান বাড়ান বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে চার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেয় বাংলাদেশ। সাবিনার পাস ধরে কৃষ্ণা দূরূহ কোণ থেকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। এরপর কৃষ্ণার পাস নিলুফা আক্তার নীলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাড়ান লিপি আক্তারকে, টোকায় ব্যবধান আরও বাড়ে। ১৯ মিনিটে সার্কেলের ভেতর থেকে লিপি আক্তার এবং নৌশিন জাহানের লক্ষ্যভেদে ৬-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে দূরপাল্লার শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা। একটু পরই সুমাইয়া মাতসুশিমা ব্যবধান আরও বাড়ান। পঞ্চম মিনিটে ডান পায়ের বুলেট শটে স্কোরলাইন ৯-১ করেন সাবিনা। এই অর্ধের দশ মিনিটে নীলার কোনাকুনি শটে ব্যবধান আরও বাড়ে। এরপর সাবিনার ফ্লিকে বল পাওয়ার পর লিপি পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। বড় জয়ের পথে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ। পরে আরও তিন গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয়। যদিও শেষের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে মালদ্বীপ ফিরিয়ে দেয় এক গোলে, তাতে সাবিনা-মাসুরাদের বাধনহারা উদযাপনের কমতি হয়নি একটুও। ফুটসালে দেশের সবার সমর্থন পেয়ে খুশি দলের অন্যতম স্ট্রাইকার মাতসুশিমা সুমাইয়া। খেলা শেষে তিনি বলেন, ‘গতকাল শেষ ম্যাচ ছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে। প্রথমে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই সাফকে, যারা এত চমৎকার একটা ফুটসাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। আমার অভিজ্ঞতা দারুণ। এখানে প্রতিভাবান খেলোয়াড় পেয়েছি, যাদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরে আনন্দিত। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ফিজিও এবং যারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন তাদের।’ নারী সাফ ফুটবলে ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ওই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন জাপানিজ কন্যা সুমাইয়া। এই টুর্নামেন্টেও দলের হয়ে অবদান রাখেন তিনি। শেষ ম্যাচের এক গোলসহ চার গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ফুটসালে বাংলাদেশের মেয়েদের পথচলা শুরু হয়। সে বছর কোচ গোলাম রব্বানীর অধীনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নতুন করে দল গঠন শুরু করে। প্রথমবারের মতো সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে দেশে ও দেশের বাইরে অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এই চ্যাম্পিয়ন দল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত