
একটি বিশ্বকাপ শেষ হলো মাত্রই। গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটেঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। এ আসরে খেলা হয়নি টাইগারদের। কেন হয়নি সেটি কারও অজানা নয়। আরেকটি বিশ্বকাপ এগিয়ে আসছে ক্রমেই। আগামী বছর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। বিশ্বকাপের জন্য যতটা সম্ভব সেরা প্রস্তুতির বিষয় তো আছেই, তারও আগে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য র্যাংকিংয়ে এগোতে হবে। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ভালো খেলে সে পথে এগিয়ে যেতে যান বাংলাদেশ। একইসঙ্গে টাইগারদের জন্য সিরিজটা মাঠে ফেরার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকা বাংলাদেশ আগামীকাল বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে তিন মাসের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ-যাত্রার শুরু।
সিরিজ সামনে রেখে গতকাল সোমবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন সিমন্স। শুরুতেই ধেয়ে আসল একটি প্রশ্ন। জবাবে ‘খুব ভালো প্রশ্ন’, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ঝুলিয়ে বললেন ফিল সিমন্স। অথচ প্রশ্নটিতে তিনি বিরক্ত হতেও পারতেন। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না, সেটা তো কবেকার কথা! বিশ্বকাপই শেষ হয়ে গেছে এখন। তবে বিরক্ত না হয়ে প্রশ্নটিতে বাহবাই দিলেন বাংলাদেশ কোচ। কারণ সময় অনেক পেরিয়ে গেলেও ক্রিকেটারদের হৃদয়ের ক্ষত যে এখনও শুকিয়ে যায়নি! কোচ সেটা ভালো করেই জানেন। ক্রিকেটারদের তিনি কাছ থেকেই দেখেছেন এবং জেনেছেন। তবে তার ধারণা, এখন সেই ক্ষতে প্রলেপ পড়তে শুরু করেছে। পাকিস্তান সিরিজ সেখানে আরও সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এই সিরিজ দিয়েও ওয়ানডে বিশ্বকাপের পথে দলের যাত্রা শুরু দেখছেন বাংলাদেশ কোচ।
সিমন্স বললেন, ক্রিকেটারদের বেদনার সাক্ষী তিনি। এমন এখন তাকাচ্ছেন সামনে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগও (বিসিএল) সহায়তা করেছে ক্রিকেটারদের বিষাদ কাটাতে। ‘আমার মনে হয়, আমরা এখন সেই পর্যায়ে আছি যে, এটাকে (বিশ্বকাপ) পেছনে ফেলতে শুরু করেছি। ছেলেদের জন্য এটা খুবই কষ্টদায়ক ছিল। ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি আমি, ওরা কষ্ট পেয়েছে। তবে আমরা সেই পর্যায়ে যেতে শুরু করেছি (বিশ্বকাপকে পেছনে ফেলার) এবং আমার মনে হয়, বিসিএল এখানে সহায়তা করেছে। এই ছোট্ট টুর্নামেন্টটি আমাদেরকে ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলার আবহে ফিরতে সহায়তা করেছে এবং আমরা এখন এই তিনটি ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। কাজেই আমরা মনে হয়, আমরা ওই জায়গায় যাচ্ছি (বিশ্বকাপ থেকে সামনে তাকানোর)।’
বিশ্বকাপ-হতাশা ভুলতে বড় দাওয়াই হিসেবে কাজ করবে নিশ্চয়ই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজও। ১১ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এখানে এসেছে তারা। সবশেষ সিরিজে ২০১৫ সালে তাদেরকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার পাকিস্তান দলে আছে নতুনের ছড়াছড়ি, অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটার আছেন বেশ কজন। তাই বলে পাকিস্তানকে আবার হোয়াইটওয়াশ করা যাবে, এমন কিছু ধরে রাখছেন না বাংলাদেশ কোচ। ‘পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে উঠে আসা কাউকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। কারণ সবসময়ই দারুণ সব প্রতিভা উঠে আসে সেখান থেকে। অভিষেক না হওয়া মানে কিছুই বোঝায় না। যথেষ্ট ক্রিকেট খেলেই তারা স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছে। নিশ্চিত করেই বলতে পারি, তারা আবার ৩-০ ব্যবধানে হারতে চাইবে না। এই সিরিজে তারা শক্তভাবে ফিরে আসতে চাইবে। আরেকটা ব্যাপার হলো, এই সিরিজটি আগের চেয়ে অনেক ভালো উইকেটে খেলা হবে। সিরিজটির জন্য তাই মুখিয়ে আছি এবং এটিই শুরু, ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে এটিই আমাদের শুরু।’
বিশ্বকাপের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে মূল চ্যালেঞ্জ সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া আগামী বছরের ৩১ মার্চ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল সরাসরি জায়গা করে নেবে বিশ্ব আসরে। বাংলাদেশ এখন আছে ১০ নম্বরে।
তবে সিমন্স বললেন, র্যাঙ্কিং নিয়ে আপাতত ভাবছেন না তারা। ‘আমাদের দিক থেকে, বিশ্বকাপে (সরাসরি) জায়গা করে নেওয়ার ব্যাপারটি আমাদের ভাবনায় নেই। আমরা ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও ভালো হয়ে উঠতে চাই। কয়েক বছর আগে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ শীর্ষ দিকেই ছিল। সেই অভিজ্ঞতা এখন আমাদের আর নেই, সাকিব নেই এবং আরও নানা ব্যাপার আছে। তবে ছেলেদের সঙ্গে মিলে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন, প্রতিভা অনুযায়ী খেলতে পারি আমরা। কোয়ালিফিকেশনের সময়ে যত ওপরে আমরা থাকতে পারি, তত ভালো। আট নম্বরের ওপরে থাকতে পারলে ভালো।’
সম্প্রতি সাকিব আল হাসানকে নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন চলছিল বেশ জোরেশোরেই। খোদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমনকী ক্রিকেটাররাও সাকিবকে ফেরানোর বিষয়ে কথা বলছেন। যদিও পাকিস্তান সিরিজে সেটি সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আজ সোমবার জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বললেন, ‘আপনারা যতটুকু শুনেছেন বা পত্রিকায় পড়েছেন, আমিও ঠিক ততটুকুই জানি (সাকিব আল হাসানের ফেরা নিয়ে)। এ ব্যাপারে আমার কাছে বাড়তি কোনো তথ্য নেই।’
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গত অক্টোবরে সেই সিরিজের মিরপুরের মন্থর, নিচু বাউন্সের উইকেটে প্রথম ম্যাচে দুই পেসার নিয়ে খেলেছিল দল, পরের দুই ম্যাচের একাদশে পেসার ছিলেন মোটে একজন। সেই একমাত্র পেসার মুস্তাফিজকে শেষ ম্যাচে বল হাতেই নিতে হয়নি। স্পিনাররাই শেষ করেছেন কাজ।
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাণ্ডজিম্বাবুয়েতে বিশ্বকাপে বড় ভূমিকা থাকবে পেসারদের। বাংলাদেশ দলের ভাবনায়ও সেটি আছে। কোচ জানালেন, সামনের সময়টায় পেসারদের প্রাধান্য দেওয়া হবে একাদশ বাছাইয়ে। ‘অবশ্যই আমরা এখন থেকে তিন পেসার খেলানোর চেষ্টা করব। কারণ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং সেখানে আমাদের এরকমই করতে হবে (তিন পেসার নিয়ে খেলা)। কখনও কখনও এমন সময়ও আসতে পারে যে তিন স্পিনার খেলাচ্ছি। তবে অবশ্যই সেটা এরকম হবে না যে, এক পেসার খেলাচ্ছি এবং দুই ওভার বোলিং করানো হচ্ছে। আমরা যেখানে খেলতে যাচ্ছি (দক্ষিণ আফ্রিকা), সেটির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং সামনে বেশির ভাগ সময় আমরা তিন পেসার নিয়েই খেলব।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের ম্যাচ তিনটি আগামী বুধবার, শুক্রবার ও রোববার।