ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

তদন্ত প্রতিবেদন জমা, বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ

তদন্ত প্রতিবেদন জমা, বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ

গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ‘স্বাধীন তদন্ত কমিটি’ গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তদন্ত কমিটিকে শুরুতে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দিয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যেখানে বর্তমান বোর্ড সভাপতির বিরুদ্ধেও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি পক্ষ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জোরালো হয়। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ব্যক্তিদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠকদের সঙ্গেও আলোচনা করে তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এই রিপোর্ট পৌঁছে জমা দেন স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রধান বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) একেএম আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এটিএম সাইদুজ্জামান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন একেএম আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটা তদন্ত করতে বসেছিলাম। তদন্ত শেষ করে, রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য এসেছিলাম। নিরপেক্ষভাবে চেষ্টা করেছি আমরা, যাতে যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যা পেয়েছি সুন্দরভাবে চেষ্টা করেছি কাজ করার। আমরা কাউকে অভিযুক্ত না করে, নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত যা পেয়েছি সে সম্বন্ধে রিপোর্ট দিয়ে গেলাম। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি। আমরা নিরপেক্ষভাবে ইলেকশনের ডিক্লারেশন সম্বন্ধে আলোচনা করে, ইলেকশন ডেটার মন্তব্য করেছি।’

নির্বাচন নিয়ে নিজেদের রিপোর্ট প্রকাশের পাশাপাশি স্বাধীন তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচন নিয়েও নিজেদের সুপারিশ দিয়েছে। এক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন উঠছে, বিসিবির বিদ্যমান নির্বাচন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নিরপক্ষে ও সুন্দর নির্বাচন আদৌ সম্ভব কি না?

গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে একেএম আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা সুপারিশ করেছি কিছু। আপনারা দেখে নিয়েন। আছে, আছে (কনস্টিটিউশন অ্যামেন্ডমেন্ট) সুপারিশ আমরা করেছি। যেটা উনাদের মনে ধরলে হয়তো উনারা...(কাজে লাগাবেন)।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চেষ্টা করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যা পেয়েছি, সেভাবে সুন্দরভাবে (প্রতিবেদন দেওয়ার) চেষ্টা করেছি। সংক্ষিপ্তভাবে কাউকে অভিযুক্ত না করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের সময় যা পেয়েছি, সে সম্বন্ধে প্রতিবেদন দিয়েছি।’ তবে প্রতিবেদনে কী আছে, এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের থেকেই বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান। তিনি বলেন, কাউকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, স্রেফ আলোচনার জন্যই তারা ডেকেছিলেন এবং তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন। আমরা জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি করিনি। কোনো অ্যাকিউজ করিনি, কোন চার্জ ফ্রেম করনি আমরা কাউকে অভিযুক্ত করে কাউকে তার বিরুদ্ধে আমরা ক্রিমিনাল ট্রায়ালে যেমন ৩৪২ এর মাধ্যমে নিয়ে আসতে হয়, জানতে হয়, আমরা এই প্রক্রিয়ায় যাইনি। এটা আমাদের সিস্টেমে ছিল না। আমরা তদন্ত করে দেখছি সিস্টেমগতভাবে আইনে যেভাবে বলা আছে, সেভাবে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কী হয়নি, এইটুকুই আমরা রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর কিছু না। আমরা যেগুলো জিনিস পেয়েছি... সিস্টেম অনুযায়ী যা আছে, সেভাবে যা হয়েছে কি হয়নি, সেটুকু আমরা রিপোর্ট করার চেষ্টা করেছি।’

গত বছর অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনের সময় জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়ন ও ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় একটি পক্ষ। তখন তাদের অভিযোগ ছিল সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধেও। তবে তদন্ত কমিটি ডাকলেও তাতে সাড়া দেননি সাবেক এই উপদেষ্টা। তখনকার নির্বাচন কমিশন ও বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিখিত জবাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ দিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার কিছুক্ষণ পর সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং বিসিবির স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘনের মতো ‘এখতিয়ারবহির্ভূত’ কাজে অংশ না নিতেই তিনি সাক্ষাৎকারের নোটিশে সাড়া দেননি। এছাড়া কমিটির প্রজ্ঞাপনে আগে থেকে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত