
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তিন ফরম্যাটে তিন জন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বের মেয়াদ শেষের পথে।
টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে আরও আগেই। তবে দুজনেই আরও লম্বা সময় থেকে যাচ্ছেন দায়িত্বে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক থাকছেন মিরাজ, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টির ভার থাকছে লিটনের ওপরই। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের ৯ ঘণ্টার সভায় আরও অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সীমিত ওভারের দুই অধিনায়কের নেতৃত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন জানান দুই অধিনায়কের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সঙ্গে সঙ্গে। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক (সাইফ হাসান) যারা ছিলেন, তারাই চালিয়ে যাবেন পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত, যেটা ২০২৮ সালে হবে।
পাশাপাশি আমাদের ওয়ানডে অধিনায়কের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা মনে করি, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেন অধিনায়করা নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের কাজ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটা ভিশন নিয়ে কাজ করতে পারে।’
মিরাজের নেতৃত্বে সর্বশেষ দুটি ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরাজের নেতৃত্বে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
দলের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ, আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া। সেই পথচলায় মিরাজকেই নেতৃত্বের উপযুক্ত মনে করছে বিসিবি। ‘মিরাজ যেহেতু বছরখানেকের মতো হয়ে গেছে, তার একটা ভিশন আছে এবং বিশ্বকাপ যেহেতু এখনও অনেক সময় বাকি আছে, আমরা ভেবেছি যে, ওকে যদি একটু সময় দেওয়া যায় ও সুন্দর করে গোছাতে পারবে দলকে। আমার ধারণা মিরাজ ভালো করছে এবং আমাদের দলও ভালো পারফর্ম করেছে।’
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান বলেন, ‘এসবের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। অধিনায়কের একটা লম্বা সময় দেওয়া এবং অধিনায়করা নিশ্চিতভাবে যেন দল গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে, এই হলো মূলত বিষয়টা।’ লিটনের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি দল বেশ ভালো পারফর্ম করছে বেশ কিছুদিন ধরেই।
তার অধিনায়কত্বে সন্তুষ্টির কথাও জানালেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান। ‘সে ভালো কাজ করছে এবং ওর তত্ত্বাবধানে থাকলে আমাদের দল আরও ভালো করবে। একটা গোছানো দল আমরা পাব। টি-টোয়েন্টিতে আমরা মোটামুটি ভালো করেছি ওর নেতৃত্বে। সেই কারণেই ওর ওপর বিশ্বাসটা রাখা এবং এজন্য ওকে এই দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।’