
সৌদি প্রো লিগের রেফারিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আল আহলির ইংলিশ ফরোয়ার্ড আইভান টনি। তার ক্লাব সতীর্থ গালেনো তো আরও বড় অভিযোগ করেছেন। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের মতে, ‘একজনকে শিরোপা জেতাতে’ চেষ্টা চালাচ্ছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। গালেনো সরাসরি কারও নাম না বললেও ধারণা করা হচ্ছে, সেই একজন হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আল নাস্?রে যোগ দেন পর্তুগিজ মহাতারকা। কিন্তু এখনও লিগ শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। টনি ও গালেনোর বিস্ফোরক মন্তব্য এসেছে আল ফায়হার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর। গত বুধবারের ওই লড়াইয়ে তাদের পক্ষে দুটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই দুইজন। ওই ড্রয়ে লিগ শিরোপার লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছে আল আহলি। ২৮ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে এখন তারা। শীর্ষে থাকা আল নাস্?রের সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান এখন চার পয়েন্টের। রোনালদোরা একটি ম্যাচ কমও খেলেছেন।
ম্যাচটির পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ গালেনো সরাসরি আঙুল তোলেন লিগ কর্তৃপক্ষের দিকে। ‘তার হাতে ট্রফিটি তুলে দাও, এটাই তো তারা (কর্তৃপক্ষ) চায়। তারা যেকোনো উপায়ে আমাদের চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ছিটকে দিতে চায়। তারা শুধু একজন ব্যক্তির হাতে ট্রফি তুলে দিতে চায়, যা আমাদের ক্লাবের প্রতি চরম অসম্মান।’ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে টনিকে জিজ্ঞেস করা হয়, রেফারিং থেকে কারা সুবিধা পাচ্ছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, কারা। কাদের আমরা তাড়া করছি?’
আল-ফায়হার বিপক্ষে ৩৬তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন টনি। চলতি মৌসুমে লিগে ২৭টি গোল করে সবার ওপরে আছেন তিনি। ভিএআর রিভিউয়ের পরও পেনাল্টি না পাওয়ায় ক্ষোভ ঝরে তার কণ্ঠে। ‘বড় আলোচনার বিষয় হলো, ওই দুটি পেনাল্টি। সেগুলো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার পেনাল্টি ছিল। আমি জানি না, রেফারি আর কি দেখতে চায়, খেলোয়াড় দুই হাতে বল তুলে নেবে? তখন কি পেনাল্টি দেবেন? এরপর আমরা যখন রেফারির সঙ্গে কথা বলতে চাইলাম, তিনি বললেন ‘এএফসি-তে (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) মনোযোগ দাও।’ রেফারি কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন? আমাকে যদি আরও গভীরের কথা বলতে বলা হয়, বলতে পারব, কিন্তু এটা আমাকে বিপদে ফেলবে। তবে আমি যা সত্যি তাই বলি। এটা পরিষ্কার যে, রেফারির মন অন্য কোথাও ছিল। পুরো মৌসুমে এগুলোকে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে তারা সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছে। আমি জানি না কেন।
সৌদি প্রো লিগের রেফারি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আল আহলি। ‘আমাদের দল রেফারির অন্যায্য সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছে। এটা অগ্রহণযোগ্য এক পরিস্থিতি, যা প্রতিযোগিতাটির উন্নয়নেও সহায়ক নয় এবং ন্যায্যতাও বজায় রাখছে না।’
তবে এখনও শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়নি আল আহলির। সব প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের লক্ষে এগিয়ে যেতে চান টনি। ‘আমরা এগিয়ে যাব, যা করতে পারি তা-ই করব। আশা করি কিছু ন্যায্য সিদ্ধান্ত পাব। যদি ভালো রেফারি পাই, স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারব এবং সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে গেলে ভালো সুযোগ থাকবে। কিন্তু এমন হলে সবসময়ই কঠিন হবে।’ ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জেতেনি আল নাস্?র। দ্বিতীয় স্থানের আল হিলাল থেকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা।