
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। সিরিজ শুরুর সপ্তাহ খানেক আগে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। গত মাসে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারায় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই স্কোয়াড অপরিবর্তিত রেখেছেন নির্বাচকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডের জন্য গতকাল শনিবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচক প্যানেলের গড়া প্রথম দল এটিই। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে ছিলেন অন্য তিন নির্বাচক হাসিবুল হোসেন, নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরিও।
দলের নেতৃত্বে থাকছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। অলরাউন্ড বিভাগে আফিফ হোসেন এবং ব্যাটিং লাইনআপে সাইফ হাসানও জায়গা ধরে রেখেছেন। যদিও তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা উল্লেখযোগ্য ছিল না। সর্বশেষ সিরিজে ৩ ম্যাচে মোট রান ৫২। ৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ফিফটি ১টি। তবুও এই ব্যাটারের ওপর থেকে ভরসা হারাচ্ছেন না নির্বাচকরা।
ফলে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতে পারেন আফিফ হোসেনও। সবশেষ সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংস ব্যাট করে তার রান ১৪ ও অপরাজিত ৫। আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন ৬৭ রান। তবু তিনি ধরে রাখতে পেরেছেন দলে জায়গা।
দলে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ব্যস্ত থাকা এই ক্রিকেটাররা ফিরে আসবেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে।
আগের সিরিজের দল থেকে কোনো পরিবর্তন না আনার কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক। ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, তখন মনে হয়েছে, গত সিরিজটায় আমরা সফল হয়েছিলাম। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু ক্রিকেটার হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু ক্রিকেটার নতুন এসেছে। আমাদের পলিসি হচ্ছে, যখন কেউ আসবে তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে, তারা খারাপ খেলেনি। আমরা ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করতে চাই, যার জন্য আমরা এই সিরিজে দলে বদল আনিনি।’
দল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা ও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার নীতির এই কারণেই সাইফ-আফিফকে দলে রেখে দেওয়া হয়েছে, জানালেন হাবিবুল। বাংলাদেশ যদিও পিএসএল থেকে ক্রিকেটারদের ফেরত আনছে, নিউজিল্যান্ড বেছে নিয়েছে ভিন্ন পথ। আইপিএল ও পিএসএলে থাকা ক্রিকেটারদের বাইরে রেখে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির দল পাঠাচ্ছে তারা। বাংলাদেশ কেন সেরা দল মাঠে নামাচ্ছে, সেটি তুলে ধরলেন প্রধান নির্বাচক। ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনো বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে ম্যাচ জেতা। জেতার জন্যই আমরা সেরা দলটি সাজাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা স্যাক্রিফাইস করে নয়।’
আগামী ১৭ এপ্রিল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ওয়ানডে। ২০ এপ্রিল একই ভেন্যুতে হবে পরের ম্যাচ। আর ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে গড়াবে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি। কৃত্রিম আলো যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করে ম্যাচগুলো এগিয়ে এনে দিনের আলোতে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন এই কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। ওয়ানডে লড়াই শেষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে দল দুটি। আগামী ২৭ ও ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের মাটিতেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২ মে মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টির মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে কিউইদের এই সফরের। বাংলাদেশ ওয়ানডে স্কোয়াড : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।