
ম্যাচের প্রথমভাগে বল হাতে ভালোই করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে দ্বিতীয়ভাগে তাকে ছাড়িয়ে গেলেন নাহিদ রানা। দারুণ বোলিং করলেন তার সতীর্থ শরিফুল ইসলামও। লাহোর কালান্দার্সকে গুঁড়িয়ে দেওয়া পথে বড় অবদান রাখলেন পেশাওয়ার জালমির এই দুই পেসার। গতকাল শনিবার করাচিতে লাহোরকে ৭৬ রানে হারায় পেশাওয়ার। ১৭৩ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে স্রেফ ৯৭ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। লাহোরকে অল্পতে থামিয়ে দেওয়ার পথে দুই উইকেট নেন গতিময় পেসার নাহিদ। ৩ ওভার করে স্রেফ ১৫ রান দেন তিনি। দুই ওভারে ১৭ রান খরচায় একটি শিকার ধরেন শরিফুল।
প্রথম ইনিংসে ৩০ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন লাহোর কালান্দার্সের অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই শরিফুলকে আক্রমণে আনেন বাবর আজম। অধিনায়কের চাওয়া দ্রুতই পূরণ করেন বাঁহাতি পেসার। প্রথম দুই বলে একটি সিঙ্গল দেওয়ার পর তৃতীয় ডেলিভারিতে এনে দেন সাফল্য। কাভারের ওপর দিয়ে খেলার চেষ্টায় মিড-অফে ধরা পড়েন মোহাম্মাদ নাঈম।
পরের বলে একটি সিঙ্গল নেন আবদুল্লাহ শাফিক। পঞ্চম ডেলিভারিতে চার মারেন ফখর জামান। শেষ বলটিতে আসেনি কোনো রান। ৬ রান দিয়ে ওভার শেষ করেন শরিফুল। চতুর্থ ওভার করতে আসা শরিফুলকে চার মেরে স্বাগত জানান ফখর। পরের দুই বলে নিতে পারেননি কোনো রান। চতুর্থ ডেলিভারিতে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মারেন ফখর। শেষ দুই বলে আসে তিন রান। এবার ১১ রান দেন শরিফুল। আগের ম্যাচে স্রেফ ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া নাহিদকে বোলিংয়ে আনা হয় ষষ্ঠ ওভারে। প্রথম বল ডট দিয়ে ওভার শুরু করেন তিনি। পরের বলে তাকে চার হাঁকান শাফিক। তৃতীয় ডেলিভারি ডট খেলা শাফিক চতুর্থ বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। শেষ দুই বলে রান নিতে পারেননি সিকান্দার রাজা। অষ্টম ওভারের প্রথম তিন বল ডট দেন নাহিদ। শেষ তিন বলে দুটি সিঙ্গল ও একটি চার হজম করেন তিনি। পঞ্চম ডেলিভারিতে পুল করে চার মারেন রাজা। নাহিদকে আক্রমণে আনা হয় পরে ত্রয়োদশ ওভারে। প্রথম বলে সিঙ্গল নেন ওয়েলালাগে। পরের বলেই কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন উসামা মির। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে চোখধাঁধানো ক্যাচ নেন কুসাল মেন্ডিস। পরের তিন বল ডট দেওয়া নাহিদকে শেষ বলে চার মেরে দেন উবাইদ শাহ। একটু টেনে করা স্লোয়ার ডেলিভারিতে লং-অন দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান উবাইদ। পেশাওয়ারের সেরা বোলার মাইকেল ব্রেসওয়েল। ৪ ওভারে স্রেফ ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। সমান তিন উইকেট নিতে ২১ রান খরচ করেন সুফিয়ান মুকিম। ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন মেন্ডিস।