
এক সময় অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য পেসার ছিলেন। চোটপ্রবণ হওয়ায় ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ হয়নি। অবসরে যেতে হয়েছে দ্রুতই। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শন টেইট। তার অধীনে পেস বোলাররা ভালো পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন। নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান বা তাসকিন আহমেদের বাইরে পাইপলাইনের পেসারদের সঙ্গেও কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ। এই সময়ে বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে কাজ করতে বেশ উপভোগ করছেন শন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডের আগর দিন গতকাল বুধবার সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে কোচের দায়িত্ব উপভোগের কথা জানিয়ে টেইট বলেন, ‘ভীষণ, ভীষণ উপভোগ করছি। ওরা উন্নতি করছে। আর যখন ওরা ভালো করে, কোচ হিসেবে ভালোই লাগে। আপনি এদের কোচণ্ডপরামর্শকই হতে চাইবেন। আমরা সবাই মিলে একটা দল। আমি এই বোলিং গ্রুপের অংশ। ১ বছরের মতো হয়ে গেল। এই ফাস্ট বোলারদের সঙ্গে কাজ করা আমি খুব উপভোগ করছি।’ দলকে নিয়ে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার, ‘আমি এটাই প্রত্যাশা করি এবং আত্মবিশ্বাসী যে তারা এটা পারবে। গত দুই ম্যাচে উইকেট একটু ভিন্ন ঘরানার ছিল। তারা কিন্তু ভালো করেছে। কালও মানিয়ে নিতে পারবে আশা করি। অস্ট্রেলিয়া হোক বা জিম্বাবুয়ে, উইকেট ভিন্ন হবে। এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য এবং সবখানে আপনাকে পারফর্ম করতে হবে, এটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে মাত্র এক উইকেট শিকার করলেও দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছেন নাহিদ রানা। ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। নাহিদ কি আরও নতুন কোনো অস্ত্র যোগ করছেন তার ভান্ডারে? টেইট বলেন, ‘আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে অনেক ধরনের বৈচিত্র্যময় বল করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টানা জোরে বল করে গেছেন নাহিদ রানা। ১০ ওভারের স্পেলে তিনি একটি বলই কেবল করেছেন ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের কম গতিতে। তার উইকেট নেওয়া বলগুলোতেও ছিল বৈচিত্র্য- ৫ উইকেটের একটি ফুল লেংথে, তিনটি বাউন্সার আর একটা উইকেট নিয়েছেন ইয়র্কারে। উইকেট নেওয়া বলগুলোর কোনোটাই ১৪১ কিলোমিটারের কম গতিতে করেননি। টেইট চান, আপাতত নিজের গতিতেই ভরসা রাখুক নাহিদ, ‘তার ভান্ডারে স্লোয়ার বল আছে, কিন্তু যদি প্রয়োজন না পড়ে, তাহলে সেটা ব্যবহার করার দরকার নেই। অন্যদের যেখানে বাধ্য হয়ে গতির পরিবর্তন করতে হয়, নাহিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন, তার বিধ্বংসী বাউন্সার আছে। অনেক বোলার, যারা ১৩০ কিমি গতিতে বল করেন, তাদের ও রকম বাউন্সার নেই, তাই স্লোয়ার বল ছাড়া তাঁদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ কম থাকে।’ টেইট এরপর যোগ করেন, ‘কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টো। বর্তমানে সে তার গতি আর বাউন্স ব্যবহার করে শর্ট বলে প্রচুর উইকেট পাচ্ছে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু শিখবে। তবে এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।’
নাহিদের টানা জোরে বল করে যাওয়ার ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়েছেন টেইটও। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদকে ‘সম্পদ’ বলে মনে করেন তিনি। নাহিদকে নিয়ে তৈরি হওয়া রোমাঞ্চটাও টের পান টেইট। খেলোয়াড়ি জীবনে টেইট নিজেও জোরে বল করতেন। নাহিদকে দেখে কি পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলোও মনে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ পেসারের? টেইটের উত্তর, ‘অনেক মিল আছে; কিন্তু কিছু পার্থক্যও আছে। সে খুব ফিট, আমি এতটা ছিলাম না। আরও ভারী শরীর ছিল, জোরে বল করা কঠিন ছিল। কিন্তু তাকে দেখে মনে হয়, কাজটা খুব সহজ, সে খুব ভালো অ্যাথলেট। খুবই পাতলা আর শক্তিশালী। আমার চেয়ে তার চোটে পড়ার ঝুঁকি কম।’ নাহিদকে দেখে অবশ্য ভিন্ন একজনকে মনেও পড়ে টেইটের, ‘গত ম্যাচে নাহিদের যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা ইয়র্কার। আমাকে ওয়াকার ইউনিসের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তা। ফাস্ট বোলার আসবে, টপ অর্ডারে উইকেট নেবে, লেজের ব্যাটসম্যানদেরও ফিরিয়ে দেবে। আমি এটা পছন্দ করি ব্যক্তিগতভাবে।’