
মালদ্বীপের মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। দেশে ফেরার পর রাজধানীর হাতিরঝিলে বাফুফের কাছ থেকে সংর্বধনাও পেয়েছেন যুবারা। সেই অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিলটন জয়ীদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গতকাল বুধবার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে ফুটবলারদের হাতে সেই অর্থপুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সেবার পাশাপাশি দেশের ফুটবলের তৃণমূল উন্নয়নেও যে সিটি কর্পোরেশন বদ্ধপরিকর, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেটি আবারও প্রমাণিত হলো।
সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের সেবা নিয়েই মূলত কাজ করে। এরপরও ফুটবলের সঙ্গে রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক। পাইওনিয়ার লিগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন দীর্ঘদিন স্পন্সর করে আসছে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের অনেক মাঠেও ফুটবল হয়। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সিটি করপোরেশনের মাঠ সংস্কার ও পরিচর্যার বিষয়ে অর্থপুরস্কার অনুষ্ঠানে এসে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন আরও ছয়টি মাঠ খেলার জন্য উন্মুক্ত করছে, এটা দারুণ বিষয়। শুধু মাঠ উন্মুক্ত করলেই হবে না, সংস্কার এবং উন্নয়নও করতে হবে। কোচ কিংবা টেকনিক্যাল সাপোর্ট বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দেবে।’
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল দক্ষিণ এশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সামনে তাদের লক্ষ্য এশিয়ান কাপ বাছাই উতরে মূল পর্বে খেলা। সেই পর্যায়ে খেললে ফুটবলাররা সিটি কর্পোরেশনকেও ধন্যবাদ দেবেন এমনটাই জানান বাফুফে সভাপতি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিলটন মাঠ ব্যবহার ও উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন, ‘আমরা এরইমধ্যে মাঠ উন্মুক্ত করছি। পাশাপাশি সংস্কার ও ফুটবল উপযোগীর জন্য যা দরকার আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে করবো।’ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন দলের সবাইকে ৫০ হাজার টাকার চেক ও ক্রেস্ট দেয় সিটি কর্পোরেশন। এটা সামান্য হলেও ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে বলে জানালেন প্রশাসক, ‘আশা করি তোমরা সামনে জাতীয় দলে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। তোমাদের সামনে নানা বাধা সমস্যা আসবে, সেগুলো উত্তরণের জন্য আজ তোমাদের সামনে ও পেছনে বসা অনেকে রয়েছে।
তাদের পাশাপাশি আমিও রয়েছি।’ বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল দুই বার উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন। সেই দুই বারই তাবিথের সঙ্গী ছিলেন শফিকুল ইসলাম মিলটন। তাবিথ আউয়ালকে জনতার মেয়র এবং ফুটবলের প্রতি তার নিবেদনের বিষয়টি তুলে ধরেন, ‘তিনি (তাবিথ) নিজেও একজন ফুটবলার। আগে ফুটবলের অনেক জনপ্রিয়তা ছিল, মধ্যে সেটা থমকে গিয়েছিল। তিনি সভাপতি হওয়ার পর আবার সেই জনপ্রিয়তা ফেরানো ও উন্নয়নে কাজ করছেন। ফুটবলের পাশাপাশি তিনি উত্তরের নাগরিকদের জন্যও কাজ করেন অনেক।’
সাফ অনুর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের স্কোয়াড ছিল ২৩ জনের। সেই ২৩ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান ও লন্ডনের ইব্রাহিম নেওয়াজ- এই তিনজন ছিলেন প্রবাসী। তাদের অর্থপুরস্কারের চেক দেওয়া হয়েছে পরিবারের কাছে। এসএসসি পরীক্ষার জন্য চারজন উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাদের চেক বাফুফে গ্রহণ করেছে। তবে দলের কোচিং স্টাফরা আর্থিক প্রণোদনা পাননি, শুধু ক্রেস্ট পেয়েছেন।