ঢাকা শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে দেড়শ’র মধ্যে আনাই কোচ ডুলির লক্ষ্য

র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে দেড়শ’র মধ্যে আনাই কোচ ডুলির লক্ষ্য

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক থমাস ডুলি। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকায় নেমে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসেছেন। মঞ্চে উঠে বিজয়ীদের প্রশংসায় ভাসালেন তিনি। ফ্রেমবন্দি হলেন লাল-সবুজের পতাকা হাতে। জার্মান বংশোদ্ভূত এই কোচ নতুন দায়িত্ব নিয়ে বললেন, বাংলাদেশকে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৬০-১৫০ এর মধ্যে আনাই তার প্রাথমিক লক্ষ্য।

হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর, অনেক গুঞ্জন শেষে, ডুলিকে নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দুটি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ এই কোচ কাজ করেছেন জার্মানির সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সঙ্গেও। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন ডুলি। আসছে ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ডাগআউটে অভিষেক হবে ৬৫ বছর বয়সী এই কোচের। ৪৫ বছর ধরে ফুটবলের সঙ্গে থাকা ডুলির এশিয়াতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এশিয়ার দেশ ফিলিপিন্সের প্রধান কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে ফিলিপিন্স অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ র‍্যাংকিং অর্জন করে। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ভীষণ নাজুক, ১৮১তম। এই দুরবস্থা থেকে উত্তরণের দিকে শুরু থেকে দৃষ্টি দিতে চান ডুলি। প্রাথমিক লক্ষ্য জানালেও মনে করিয়ে দিলেন, রাতারাতি সম্ভব নয় কোনো কছুই। ‘এখানে উপস্থিত সকল বিজয়ী তারকারা, তারা প্রত্যেকেই এই জায়গায় আসতে কঠোর থেকে কঠোরতর পরিশ্রম করেছেন। জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু না কিছু ত্যাগ করতেই হবে। আর যারা সেটা করতে রাজি, তাদের নিয়ে আমরা সফল হতে পারব। তাই আমার লক্ষ্য হলো র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে চলে আসা। এটা রাতারাতি হবে না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এ নিয়ে আমি একটা বইও লিখেছি- দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস।’ নতুন কোচ বলেন, ‘বইয়ে চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে এবং তার একটি হলো মানসিকতা। আর মানসিকতা হুট করে বদলায় না, এটা হলো আপনার চিন্তা করার ধরন। আমাদের ফুটবল নিয়ে ভাবতে হবে এবং আমাদের কী করা দরকার, তা বুঝতে হবে, তাহলেই আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারব। লক্ষ্যটা বাস্তবসম্মত হতে হবে। ১৬০-এর নিচে নামাটা বাস্তবসম্মত, তবে তা আগামীকালই সম্ভব নয়, হয়তো এক বছরের মধ্যে সম্ভব।’ ২০০৩ সালে সাফের শিরোপা জয়ের পর সাফল্য খরা চলছে বাংলাদেশের। সমর্থকেরা খুব আশা করে তাকিয়ে থাকলেও সাফের গত আসরে কাবরেরার কোচিংয়ে দলের পথচলা থামে সেমি-ফাইনালে। সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা বললেন ডুলি। এ নিয়ে বলতে গিয়ে একটু যেন মজাও করলেন তিনি। ‘এটা কোনো ব্যাপার না, আমি এর জন্য প্রস্তুত। আমি জার্মানি থেকে এসেছি এবং জার্মানিও ঠিক একই রকম। আসলে এখানেও, বাংলাদেশে, আমি জানি না, হয়তো এক মিলিয়ন কোচ ঘরের বাইরেই ঘোরাঘুরি করছে! তারা সবাই ফুটবলটা বোঝে এবং সেটা ভালো কথা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় আমার খেলোয়াড়দের এবং ফেডারেশনকেও বলি- আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারি, যদি লক্ষ্যটি বাস্তবসম্মত হয়। আর বাংলাদেশ কত বছর ধরে কিছু জেতেনি, ২৩ বছর? এখন সময় এসেছে কিছু করে দেখানোর।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত