
দক্ষিণ এশিয়ার উশু অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হলো। বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু দক্ষিণ এশীয় উশু ফেডারেশনের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার শ্রীলঙ্কার কলম্বোর তাজ সামুদ্রা হোটেলে দক্ষিণ এশীয় উশু ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মার্শাল আর্ট অঙ্গনে ‘শিফু দিলু’ নামে পরিচিত দিলদার হাসান দিলু দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের উশুর পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বেই দেশে উশুর ভিত শক্ত হয়েছে, বিস্তৃত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যক্রম। এবারের কংগ্রেসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি এসএম শহিদুল হক ভূঁইয়া। কংগ্রেসে যুগ্ম সম্পাদক পদ ছাড়াও বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করে আঞ্চলিক উশু প্রশাসনে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে। এসএম শহিদুল হক ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছেন দক্ষিণ এশীয় উশু ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি। ডিএম রুস্তম হয়েছেন অনারারি মেম্বার। বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল এসএম রিদওয়ানুর রহমান উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক উশু বিচারক মশিউর রহমান টেকনিক্যাল কমিটিতে, আন্তর্জাতিক উশু বিচারক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল ট্র্যাডিশনাল উশু কমিটিতে এবং আন্তর্জাতিক উশু বিচারক শাহরিন সুলতানা নারী কমিটির অনারারি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বাংলাদেশে উশুর সূচনা থেকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে শিফু দিলুর অবদান সবচেয়ে বেশি বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
তার হাত ধরেই দেশে জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশিপ, জুনিয়র ও ইয়ুথ প্রতিযোগিতা, কোচেস ট্রেনিং এবং জাজেস কোর্স নিয়মিতভাবে আয়োজন শুরু হয়। উশু উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চীন থেকে ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছে। এশিয়ান গেমস ও দক্ষিণ এশীয় গেমসে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি ২০২৬ ডাকার যুব অলিম্পিকের প্রস্তুতিও চলছে জোরেশোরে। ওই আসরেই প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে উশু। ফেডারেশন সম্প্রতি তাওলু ও সান্ডা ডিসিপ্লিনে অলিম্পিক সলিডারিটি ন্যাশনাল টেকনিক্যাল কোচিং কোর্স আয়োজন করেছে। আগামী আগস্টে ৩০ বাংলাদেশি অ্যাথলেটকে ৫০ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।