ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সাব্বিরের ঝড়ে নাটকীয় জয় বাংলাদেশের

সাব্বিরের ঝড়ে নাটকীয় জয় বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে আবারও জয়ের গল্প লিখল বাংলাদেশ এইচপি। তবে সেই গল্পের মূল চরিত্র একেবারেই আলাদা-সাব্বির রহমান! তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমির বোলিং আক্রমণ ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দুই বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ এইচপি। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এটি তাদের টানা দ্বিতীয় জয়। মারারা ওভালে গতকাল রোববার টস জিতে প্রথমে হোবার্টকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। সিদ্ধান্তের শুরুতেই সাফল্য এনে দেন বোলাররা। প্রথম ওভারেই জ্যাক ডোরানকে ফিরিয়ে দেন আবু হায়দার রনি। পরের ওভারে মোহাম্মদ রুবেলের শিকার নিভেথান রাধাকৃষ্ণণ। মাত্র ১৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে হোবার্ট।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ব্র্যাডলি হোপ ও টিগ উইলি। দুজনের ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ১৭ বলে ২২ রান করে হোপ ফিরলেও উইলি তখনও অটল। একের পর এক সতীর্থকে হারিয়েও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। ৫৩ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৭৮ রানে অপরাজিত থাকেন উইলি। তার ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে হোবার্ট। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ রুবেল। চার ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। রিপন মণ্ডল পান দুটি উইকেট, আর রনি ও সাকলাইন নেন একটি করে।

১৫৪ রানের লক্ষ্যে নেমে অবশ্য বাংলাদেশের শুরুটা ছিল অস্বস্তির। প্রথম দুই ওভারেই হাবিবুর রহমান সোহান ও আরিফুল ইসলামকে হারায় তারা। দুজন মিলে করতে পারেন মাত্র চার রান। নেপাল ‘এ’ দলের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা জিসান আলমও এবার ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৯ রানেই তাকে ফেরান রাধাকৃষ্ণণ। অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরও ব্যর্থ হন। ঠিক তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন সাব্বির। চার নম্বরে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করেন তিনি। হোবার্টের বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন চার-ছক্কার ঝড়ে। ৩৬ বলেই তুলে নেন অর্ধশতক। তার ব্যাটিংয়ে রান তাড়ার সমীকরণ দ্রুতই বাংলাদেশের পক্ষে চলে আসে।

শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৫৯ রান করে থামেন সাব্বির। ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা। তার বিদায়ের সময় জয় থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না বাংলাদেশ। সাব্বিরের তৈরি করে দেওয়া মঞ্চে পরে দায়িত্ব শেষ করেন দলের পরের ব্যাটাররা। শামীম হোসেন করেন ১৬ রান, এসএম মেহরবের ব্যাট থেকে আসে ১৩। এরপর আব্দুল গাফফার সাকলাইনের অপরাজিত ১৯ এবং আবু হায়দার রনির অপরাজিত ৮ রানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ১৯.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এইচপি। এই জয়ে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন চার। দুই ম্যাচেই জয় পাওয়ায় নেট রানরেটে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। সমান চার পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে আছে নিউ জিল্যান্ড ‘এ’। দলের জয় নিশ্চিত হলেও ডারউইনের ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে থাকলেন সাব্বির রহমান। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ব্যাটার ব্যাট হাতে যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন-আক্রমণাত্মক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার সামর্থ্য এখনও ফুরিয়ে যায়নি। হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমির মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপের মুহূর্তে ৫৯ রানের ইনিংস তাই কেবল জয়ের অংশ নয়, সাব্বিরের জন্য নিজেকে নতুন করে জানান দেওয়ারও এক সুযোগ!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত