
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ আগামী অক্টোবরে কলকাতায়। কিন্তু ব্রাজিল ফুটবলের একটি প্রতিনিধি দল রোববার এলো ঢাকায়। জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে দেখলেন সেই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সূত্রে জানা গেল, ভবিষ্যতে কোনো ম্যাচের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দেখতেই মূলত এই প্রতিনিধি দলের আগমন। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারত-ব্রাজিলের ম্যাচটির প্রস্তুতির ফাঁকেই মূলত ঢাকায় এসেছে ওই প্রতিনিধি দল। দুপুরে ঢাকায় এসে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শনে আসেন পাঁচ সদস্যের দলটি। মাঠের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন তারা, ছবি তুলে ও ভিডিও করেও রাখেন। হাত দিয়ে টিপে ঘাস ও মাটি পরখ করতেও দেখা যায় তাদের। এছাড়াও ড্রেসিংরুম, টয়লেট, গ্যালারিসহ সবকিছুই খতিয়ে দেখেছেন তারা।
পরে বিকালে তারা পরিদর্শন করেন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, সেখানকার অনুশীলন মাঠ ও গোল্ডস জিম।
ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ধরনের গুঞ্জনও ছড়াতে থাকে ফুটবল আঙিনায়। কলকাতার মাঠ পছন্দ না হওয়ায় তারা বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, এমন খবরও ভাসতে থাকে বাতাসে। তবে সেই খবরের বাস্তব কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বাফুফের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেল, মূলত বাফুফে সভাপতির আমন্ত্রণেই প্রতিনিধি দলটি এসেছে। ভারতে ম্যাচটির প্রস্তুতি ঘিরে যেহেতু ব্রাজিলের প্রতিনিধিদের সেখানে দফায় দফায় যেতেই হবে, এর ফাঁকে বাংলাদেশেও তাদেরকে আসতে অনুরোধ করা হয়েছে ভবিষ্যতে কোনো ম্যাচের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে। সেই ম্যাচটি হতে পারে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিলের, কিংবা হতে ব্রাজিলের সঙ্গে অন্য কোনো দলের লড়াইয়ের নিরপেক্ষ ভেন্যু। তবে সবকিছু এখনও একদম অঙ্কুরেই আছে। মাঠ পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে ছিলেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার ও গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান ইকবাল হোসেন। ইকবাল পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘আজকে ফুটবল ফেডারেশনের জন্য একটা গৌরবজনক দিন। ব্রাজিল থেকে একটি প্রতিনিধি দল এসে আমাদের স্টেডিয়াম, আমাদের মাঠ, সুযোগসুবিধা, সবকিছু দেখেছে। তাদের লক্ষ্য হলো আগামীতে তারা যেকোনো দেশের বিপক্ষে অথবা আমাদের বাংলাদেশের বিপক্ষেও খেলতে চায়।
আমরা তাদেরকে বুঝিয়েছি যে মাঠের কাজ চলমান। হয়ত আর দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তারা পুরো স্টেডিয়াম ঘুরে দেখে বলেছে প্রয়োজনে আরেকবার এসে দেখবে। আমাদের স্টেডিয়ামের পরিবেশ তারা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত এবং মুগ্ধ। এখনই মতামত পুরোপুরি দেয়নি তারা। তবে প্রাথমিকভাবে বলেছে যে, কোনো ম্যাচ তারা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে আমাদের এখানে করতে চায়।’