
শুরু থেকেই জয়ের যে গল্প লিখছিল বাংলাদেশের মেয়েরা, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হলো না! প্রতিপক্ষ হংকং, সামনে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট-কোনোটিই যেন যথেষ্ট ছিল না লাল-সবুজের মেয়েদের থামানোর জন্য। বরং ৬-০ গোলের দাপুটে জয়ে চ্যালেঞ্জার পুলে শতভাগ জয় নিয়ে শেষ আটে উঠেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি দল। গতকাল বুধবার চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই হংকংকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। নবম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে অধিনায়ক শারিকা রিমনের গোলে শুরু হয় গোল উৎসব।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দলকে। ১৯ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আইরিন রিয়া। সাত মিনিট পর কনা আক্তারের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লাল-সবুজের মেয়েরা।
৩১ মিনিটে গোল করেন মোসাম্মত লিমা। তার দুই মিনিট পর আবারও গোলের খাতায় নাম লেখান আইরিন রিয়া। ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয়কে ৬-০-তে নিয়ে যান লিমা। ছয় গোলের পাঁচটিই এসেছে ফিল্ড গোল থেকে। অন্যটি পেনাল্টি কর্নার থেকে। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন কনা আক্তার।
হংকং ম্যাচ দিয়ে শুধু আরেকটি জয়ই যোগ হয়নি, বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসেও যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। চীনা তাইপে, পাকিস্তান ও কাজাখস্তানের পর হংকং-চ্যালেঞ্জার পুলে চার ম্যাচ, চার জয়। ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ আট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
ব্যক্তিগত সাফল্যেও এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা।
চার ম্যাচে ছয় গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অধিনায়ক শারিকা রিমন। পাঁচ গোল নিয়ে যৌথভাবে পরের অবস্থানে আছেন আইরিন রিয়া। দলের গোল উৎসবে তাদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। তবে গ্রুপ পর্বের দাপট এখন অতীত। সামনে শুরু হচ্ছে আসল পরীক্ষা! ১০ দলের এই প্রতিযোগিতায় এলিট পুলের পাঁচ দল-স্বাগতিক চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও মালয়েশিয়া। চ্যালেঞ্জার পুল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে শেষ আটে উঠেছে কাজাখস্তান ও পাকিস্তান। একদিন পরই কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা জাপান।
গ্রুপ পর্বে যাদের বিপক্ষে তুলনামূলক স্বস্তিতে খেলেছে বাংলাদেশ, শেষ আটে সেই চিত্র থাকবে না। প্রতিপক্ষ হবে এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর একটি। আর সেই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপের দরজা খুলবে কি না। শেষ চারে উঠতে পারলেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। তাই কোয়ার্টার ফাইনাল এখন শুধুই আরেকটি ম্যাচ নয়; এটি বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে বৈশ্বিক মঞ্চে ওঠার সিঁড়ি। চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৬ গোল নয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধারাবাহিকতা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কোচ জাহিদ হোসেনও জানেন, একই সঙ্গে উন্নতির জায়গাগুলো ঠিক করাও জরুরি।
হংকংকে হারানোর পর তিনি বলেন, 'এই জয়ে আমরা খুশি। তবে পেনাল্টি কর্নারে আমাদের আরেকটু নজর দিতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে আমরা এমন দুর্বল টিম পাব না। পেনাল্টি কর্নারে যে ভুলগুলো হয়েছে, তা নিয়ে আমরা কাজ করব।' গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের জয়রথ ছুটেছে নিখুঁত গতিতে। কিন্তু সামনে আরেক গল্প। কোরিয়া কিংবা জাপানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই গতিটা ধরে রাখতে পারলেই মিলবে সাফল্যের সবচেয়ে বড় পুরস্কার-বিশ্বকাপের টিকিট!