
জাপানের কাছে হারের হতাশা পেছনে ফেলে শেষটা জয় দিয়েই রাঙাল বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-২০ নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গতকাল শনিবার শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আসর শেষ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। চীনের মকিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করে তারা। ম্যাচের প্রথম দুই কোয়ার্টারে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মালয়েশিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেনি তারা। গোল না পেলেও আক্রমণে বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বিরতির পর সেই চাপেরই ফল আসে তৃতীয় কোয়ার্টারে। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমন। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণ থামায়নি বাংলাদেশ। চতুর্থ কোয়ার্টারে দারুণ এক ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন কনা আক্তার। তখন জয়টা অনেকটাই বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়! শেষ দিকে অবশ্য ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায় মালয়েশিয়া। ৫৯ মিনিটে একটি গোল শোধ করে তারা। তবে বাকি সময়টুকু সামলে নেয় বাংলাদেশের রক্ষণ। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। এই জয় শুধু পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেনি, বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হতে দেয়নি। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়া কাপ থেকে চারটি দল সরাসরি জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। তবে ভারত যদি আগামী বছরের বিশ্বকাপের আয়োজক হয়, তাহলে আয়োজক হিসেবে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের কারণে এশিয়া অঞ্চল থেকে আরও একটি দল সুযোগ পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পঞ্চম হওয়া বাংলাদেশও বিশ্বকাপের টিকিট পেতে পারে। বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে সম্ভাবনাটি জিইয়ে রেখেছে বাংলাদেশের এই পঞ্চম স্থান।
বিশ্বকাপের হিসাব-নিকাশের বাইরে তাকালেও এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বড় অগ্রগতির ছাপ রয়েছে। চ্যালেঞ্জার গ্রুপে নিজেদের শক্তি দেখিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। চায়নিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকংকে ৬-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয় তারা। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা করেছে ২২ গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি।
কোয়ার্টার ফাইনালে অবশ্য সেই দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রাখা যায়নি। জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। এর সঙ্গে সরাসরি জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়! কারণ বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট নিশ্চিত করতে অন্তত সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবু জাপানের কাছে হারের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখিয়েছে দলটি। মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে লড়াকু হকি খেলে জয় ছিনিয়ে নেওয়া সেই প্রত্যাবর্তনেরই প্রমাণ। ২০২৩ সালের আসরে যেখানে নবম স্থান নিয়ে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশকে, এবার সেখানে পঞ্চম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে তারা। নারী হকির জন্য তাই এবারের জুনিয়র এশিয়া কাপকে কেবল একটি পঞ্চম স্থান দিয়ে বিচার করার সুযোগ কম। একদিকে প্রথমবার এশিয়ান গেমসে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের নারী হকি, অন্যদিকে জুনিয়র দলের পারফরম্যান্সও ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করছে নতুন প্রত্যাশা। বিশ্বকাপের দরজা শেষ পর্যন্ত খুলবে কি না, সেই উত্তর মিলবে কিছুদিন পর। তবে মকির মাঠে বাংলাদেশ অন্তত এটুকু দেখিয়ে দিয়েছে— তৈরি হচ্ছে এশিয়ার মঞ্চে মেয়েদের লড়াই করার সামর্থ্য!