ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফিফা কত কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশকে?

ফিফা কত কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশকে?

জুরিখে এখন যে অর্থের হিসাব চলছে, তার একটি অঙ্ক এসে থামছে ঢাকায়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে উয়েফা ও কনকাকাফের যৌথ দাবি, ২০২৭ থেকে ২০৩০ চক্রে ফিফার ২১১ সদস্য ফেডারেশনকে অন্তত ১ কোটি ডলার করে দেওয়া হোক। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ফুটবলও পেতে পারে ১ কোটি ডলার! বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য কম নয়। বরং বাফুফের হাতে এই অর্থ এলে দেশের ফুটবল অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন পরিসর তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত এটি কোনো নিশ্চিত বরাদ্দ নয়। উয়েফা ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে ফিফার কাছে দেওয়া একটি প্রস্তাব। প্রস্তাবটির পেছনে রয়েছে ফিফার বিপুল আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্ন। উয়েফা ও কনকাকাফের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৬ চক্র শেষে ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। সেই হিসাব সামনে রেখে দুই কনফেডারেশন মনে করছে, ২১১ সদস্য সংস্থাকে ১ কোটি ডলার করে দিলেও ফিফার হাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ থাকবে। তারা এই আর্থিক হিসাব স্বাধীনভাবে পর্যালোচনারও দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির গুরুত্ব এখানেই। ফিফার সদস্য হিসেবে বাফুফের সম্ভাব্য প্রাপ্তি ১ কোটি ডলার। বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত সরাসরি বাংলাদেশের ফুটবল প্রশাসনের তহবিলে বড় অঙ্কের অর্থ যোগ করতে পারে।

এই অর্থ অবশ্য যে কোনো খাতে খরচ করার সুযোগ থাকবে-এমনটি বলা হয়নি। উয়েফা ও কনকাকাফের প্রস্তাবে মূলত ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে অর্থটি এলে মাঠ, প্রশিক্ষণব্যবস্থা, বয়সভিত্তিক ফুটবল, একাডেমি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের মতো জায়গাগুলোতেই এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা সামনে আসতে পারে। বাংলাদেশের ফুটবলে অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় দলকে ঘিরে আলোচনার বাইরে বয়সভিত্তিক ফুটবল ও খেলোয়াড় তৈরির কাঠামো শক্তিশালী করা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন-এসবই দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত। সেই বাস্তবতায় ১২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্য তহবিলের গুরুত্ব কেবল একটি আর্থিক অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। তবে টাকা পাওয়ার আগে পেরোতে হবে ফিফার সিদ্ধান্তের ধাপ। আর সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান বিতর্ক!

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অধিকারে বাইরের বিনিয়োগ আনার একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছিল। এর আওতায় বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। পরে তীব্র সমালোচনার মধ্যে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত