ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম নিয়ে বিসিবির নতুন পরিকল্পনা

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম নিয়ে বিসিবির নতুন পরিকল্পনা

এবার শুধু জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নয়, নজরটা যেন চলে গেল ক্রিকেটের শিকড়ে। মিরপুরে বোর্ড সভায় একের পর এক সিদ্ধান্তে ম্যাচ ফি বাড়ল, নতুন টুর্নামেন্টের পথ খুলল, উন্নয়নের তালিকায় তালিকায় এলো মিরপুর ও বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। গতকাল রোববার মিরপুরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চতুর্থ সভা শেষে একের পর এক সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ভাতা দ্বিগুণ হয়েছে, নতুন ছয় দলের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা এসেছে। এর পাশাপাশি মিরপুরে তৈরি হবে নতুন অবকাঠামো, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম সংস্কারের প্রস্তুতিও এগোবে!

সব সিদ্ধান্ত আলাদা আলাদা মনে হলেও, একসঙ্গে দেখলে একটা বিষয় পরিষ্কার-এবার শুধু জাতীয় দলের দিকে তাকিয়ে নেই বিসিবি। নজরটা অনেকটা নেমে এসেছে ক্রিকেটের সেই জায়গায়, যেখানে ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরি হয়। এর শুরুটা টাকার অঙ্ক দিয়ে! ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরুষ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এখন আর আগের জায়গায় থাকছে না। চার দিনের ম্যাচে দেড় লাখ, একদিনের ম্যাচে এক লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা পাবেন ক্রিকেটাররা। এনসিএলের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। নারী ক্রিকেটেও এসেছে পরিবর্তন। তিন দিনের ম্যাচে ৪০ হাজার, একদিনের ম্যাচে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা ১০ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সভাপতি তামিমের বোর্ডের পরিকল্পনা এখানেই থামছে না! ডিসেম্বরে ছয় দল নিয়ে নতুন একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই ছয় দলকে শুধু একটি টুর্নামেন্টের জন্য তৈরি করার পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে অন্যান্য ফরম্যাটেও তাদের খেলানোর কথা ভাবছে বিসিবি। গল্পটা শুধুই 'আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট' নয়। বরং ছয়টি দলকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি একটি কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা। এখানেই বদলের আসল জায়গাটা। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এতদিন জাতীয় ক্রিকেট লিগ, ঢাকা লিগ কিংবা বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই ক্রিকেটারদের পথ তৈরি হয়েছে। নতুন ছয় দলের কাঠামো বাস্তবে কার্যকর হলে সেই চিত্রে নতুন একটি স্তর যোগ হতে পারে। আর সেটি যদি নিয়মিত হয়, তাহলে ক্রিকেটারদের ম্যাচের সংখ্যা, পারফরম্যান্সের সুযোগ এবং দলভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিসর-সবই বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

মিরপুর ক্রিকেট একাডেমি মাঠে তৈরি হবে তিন লেনের বিশেষায়িত অ্যাথলেটিক রানিং ট্র্যাক। ট্র্যাকটি আন্তর্জাতিক মানের এবং আইএএএফ অনুমোদিত হবে। ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও রানিং অনুশীলনে এই সুবিধা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু দৌড়ের ট্র্যাক নয়, মিরপুরের ক্রিকেট অবকাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুটি নতুন ড্রেসিংরুম নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাজে এগুলো ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি দুটি বিকল্প ড্রেসিংরুম, খেলোয়াড়দের প্রবেশপথ এবং কমন লবি এলাকার উন্নয়ন কাজও অনুমোদন পেয়েছে।

রাজধানীর বাইরেও পরিকল্পনার ছাপ রয়েছে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য স্থাপত্য, প্রকৌশল এবং প্রকল্প প্রস্তুতিসংক্রান্ত পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিসিবি! এখন অবশ্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বাস্তবায়নে।

ছয় দলের টুর্নামেন্ট শেষ পর্যন্ত কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, দলগুলো কতটা নিয়মিত থাকে, বাড়তি ম্যাচ ফি ক্রিকেটারদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে এবং নতুন অবকাঠামো কতটা কার্যকর হয়-এসবের উত্তর মিলবে মাঠেই!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত