
থানায় বসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মাহদী হাসান নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন।
ভিডিওতে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, আমরা আন্দোলন করে গভর্নমেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন আন্দোলনকারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।
এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত শোকজ চিঠি মাহদী হাসানের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গভীর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার আলীর ছেলে এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ দাবি করে, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকে তা সংগঠিত বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে রূপ নেয়।