
কৃষক ও খামারিদের গোয়ালঘর থেকে প্রায়শই গরু চুরি হচ্ছে, যার ফলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এ থেকে প্রতিকার চেয়ে পাবনার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের কোলাদীবাসীর সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে বিভিন্ন দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরের ইউনিয়নের কোলাদী বড় বটতলা, চারাবটতলা, থেকে সেওলিবাজার পর্যন্ত হাজারো এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন তারা।
এসময় তারা ‘গরু চোরের চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘গরু চোরের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন’, ‘গরু চুরি বন্ধ করো করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। অবস্থান কর্মসূচির সময় সুজানগর-পাবনা সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসামি গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিলে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্টের পরে এই দেড় বছরে প্রায় ৪০ জন কৃষকের একশত এর বেশি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়াও ১০টি ছাগল চুরি হয়েছে। অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। চোরদের বিষয়ে প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এলাকার প্রভাবশালী কিছু মহলের ইন্ধনে বাইরে থেকে চোর নিয়ে এসে এসব অপকর্ম করছে।
তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও গরু চুরি হওয়া খুবই দুঃখজনক। এলাকার কৃষকরা একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। গত ১৭ বছরেও এমন গরু চুরি হয়নি। এখন অসহায়ের মতো তারা জীবনযাপন করছে। রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করলেও অস্ত্র ধরে গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমে আসছি। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গরু চোরকে না ধরতে পারলে আরও বৃহৎ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুল আজিজ খান, শামসুর রহমান মাষ্টার, ইউপি সদস্য কোরবান আলী খান, আব্দুল খালেক খান, সাইদুল ইসলাম ছাপ্পান, আব্দুল বারী, আব্দুল্লাহীল কাফি, ওয়াহিদুজ্জামান স্বপন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা মোস্তাফিজুর রহমান জিসান প্রমুখ।পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ কাজ করছে। একটু সময় দিলে আমরা ভালোভাবে কাজ করতে পারব। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।