ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

যার জন্য রহমতের দরজা খোলা

যার জন্য রহমতের দরজা খোলা

মানুষ তার জীবন নানা সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পার করে। জীবনের পথ কখনও সহজ, কখনও কঠিন হয়। কখনও সুখ ও সফলতা আসে, আবার কখনও আসে দুঃখ-কষ্ট ও ব্যর্থতা। এ জীবনচক্রের একমাত্র স্থির অবলম্বন হলেন আল্লাহতায়ালা। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ধৈর্য এবং নামাজ। এ দুই কাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা ব্যক্তির জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা থাকে। বিপদ ও পরীক্ষায় প্রথম কাজ ধৈর্যধারণ এবং দ্বিতীয় কাজ হলো নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।’ (সুরা বাকারা : ৪৫)।

সাহায্য প্রার্থনার শক্তিশালী মাধ্যম : বিপদাপদে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে। নামাজ সেই অস্থিরতা দূর করে হৃদয়ে প্রশান্তি বর্ষণ করে। এজন্য বিপদে ধৈর্য না হারিয়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত। হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো বিপদে পড়লে বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে (সাহায্য প্রার্থনার জন্য) নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।’ (মুসনাদে আহমদ : ২৩২৯৯)। একজন মানুষ তার সমস্যার কথা অন্যকে সবসময় বলতে পারে না। তবে আল্লাহর কাছে মনের সংশয়, ব্যথা-বেদনা, দুঃখ-কষ্ট, আশা-নিরাশা সবকিছু নির্দ্বিধায় বলা যায়। নামাজের সেজদায় একজন বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি হয়। তাই সেজদা হলো সাহায্য চাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

যে দরজা কখনও হতাশ করে না : সাহাবায়ে কেরাম জীবনের যে কোনো সংকট মোকাবিলায় ধৈর্যশীল, দৃঢ় ও অবিচল থাকতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা তারা সর্বদা মেনে চলতেন। বদর, ওহুদ, তাবুকসহ সব যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম প্রথমে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ চেয়েছেন এবং বিপর্যয় দেখলে ধৈর্যধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধরে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, সে অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য পায়। কারণ, যে নামাজে দাঁড়ায়, সে মূলত আল্লাহর দরজায় দাঁড়ায়। এ দরজা কাউকে কখনও হতাশ করে না।

রহমতের দরজা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত