
মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকায় বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শহরের মানিকপুর এলাকায় রাতের আঁধারে মো. সফিকুর রহমান মাস্টার ও মো. শামসুল আলম হীরাসহ ১৫-২০ জনের একটি দল প্রবাসীর জাকির হোসেনের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
তারা আরও বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গৃহবধূ নুসরাত জাহান অপির বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়নি। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়ায় বাদী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান অপি মানববন্ধনে বলেন, গত ৭ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু মামলার কাগজপত্র হাতে পাওয়ার আগেই ৮ জানুয়ারি প্রধান আসামি সফিকুর রহমান মাস্টার জামিনে মুক্তি পান। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুসরাত জাহান অপির সঙ্গে সফিকুর রহমান মাস্টারের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৫ জানুয়ারি তিনি নিজ বসতঘরে তালা দিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরদিন ৬ জানুয়ারি সকালে প্রতিবেশীর মাধ্যমে খবর পান, একদল লোক তার বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালাচ্ছে। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে তিনি দেখতে পান, অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।
ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটও করা হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী নুসরাত জাহান অপি, ছেলে আরাফাত শিকদার, হামজা শিকদার, প্রবাসীর মা রাশিদা বেগম, প্রবাসীর ভাই মো. মুকুল, বোন মৌসুমী আক্তারসহ অন্যান্য এলাকাবাসী।
তবে অভিযুক্ত সফিকুর রহমান মাস্টার ও মো. শামসুল আলম হীরার স্বজনরা জানান, অভিযোগকারীর অভিযোগটি সঠিক নয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানা (ওসি) মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা থানায় বুধবার মামলা দায়ের হয়েছে। দুইজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।