
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা নেছার উদ্দিন নাছিরি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এর ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, আমি মিশরে নির্বাচন করলে বিজয়ী হতাম, এই বক্তব্যটি কোনো অহংকার বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে নয়; বরং দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমত ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার প্রেক্ষাপটেই এ কথা বলেছি।
মাওলানা নেছার উদ্দিন নাছিরি বলেন, তিনি বিগত ২৪ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। বিশেষ করে মিশরে তার একাধিক মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার তিন ছেলে সন্তান বর্তমানে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি শুধু প্রবাসে নয়, দেশেও সরকারি ব্যবস্থাপনার ভেতর থেকে দ্বীনের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এক সময় মিশরের কিছু নাগরিক আমাকে তাদের দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, নাগরিক হলে সেখানকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব। তখন আমি তাদের বলেছিলাম, বিষয়টি দেশের মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখতে হবে। মিশরে আমার বহু পরিচিত ও শুভানুধ্যায়ী রয়েছেন। সেই সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণেই আমি নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলাম, ‘মিশরে নির্বাচন করলে আমি পাশ করতাম।’
এর আগে একই দিনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আগমন উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলার নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, আজ সোমবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড সংলগ্ন মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের আমির চরমোনাই পীর। এ জনসভা সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের প্রার্থী মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামপন্থীদের নিয়ে এক বাক্স নীতিতে ৮ দল গঠিত হয়েছিল, যা পরে ১১ দলে বিস্তৃত হয়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি থেকে সরে যাওয়ায় আমাদের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়। এক পাল্লায় আমেরিকা আর অন্য পাল্লায় ভারত এই ক্ষমতায় আমরা বিশ্বাসী নয়।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঘোষিত ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বস্তরে শরীয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।