
বুধবার রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে চলছে জমজমাট নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে জেলার ৬টি আসনের বেশিরভাগ আসনেই প্রার্থীদের কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে—এমনটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
অনেক নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনে খুব সহজে কোনো প্রার্থী এগিয়ে নেই। তাদের মতে, সিলেট জেলার ৬টি আসনের একটি আসনে বৃহত্তর দল বিএনপির প্রার্থী অনেকটা নির্ভার। বাকি ৫টি আসনেই তাদেরকে তীব্র লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে। কোথাও লড়াই হবে দুমুখী, কোথাও ত্রিমুখী। এর মধ্যে ১টি আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ৩টি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১টি আসনে খেলাফত মজলিস চমক দেখানোর মতো অবস্থানে রয়েছে।
সিলেট-১ আসন সদর ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গঠিত। নানা কারণে মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে এবার প্রার্থী ৮ জন। তবে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী মৌলানা হাবিবুর রহমানের মধ্যে।
সিলেট-২ বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে এই আসন গঠিত। এই আসনে এবার প্রার্থী ৫ জন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিখোঁজ হওয়া কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলীর। যদিও এখানে বিএনপির শক্ত ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি নিখোঁজ হওয়া বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলীর প্রতি সহানুভূতি থেকে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনাকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয়রা।
সিলেট-৩ দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই এখানে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালিক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলিম উদ্দিন রাজুর মধ্যেই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে।
সিলেট-৪ পর্যটন কেন্দ্রিক সিলেটের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার প্রার্থী ৫ জন। নানা নাটকীয়তার পর এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক আলোচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এখানে তাকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে।
সিলেট-৫ সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে এবার প্রার্থী ৪ জন। তবে এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। এ আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর উবায়দুল্লাহ ফারুক। কিন্তু দলের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)। যদিও তুলনামূলক রক্ষণশীল এই এলাকায় খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
সিলেট-৬ প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীর মধ্যে। এখানে তুমুল লড়াই হবে বলে স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন।