
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ায় এখানে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে বিশেষ সুযোগ প্রদান করা জরুরি। তাই উপযুক্ত বিনিয়োগকারী ও সরকারের সহযোগিতায় এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক ও সম্ভাবনাময় শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশ সম্ভব।
গতকাল মঙ্গলবার রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে উত্তরাঞ্চলে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রংপুর দেশের অন্যতম খাদ্যশস্য ভান্ডার; এখানকার শ্রম ব্যয় তুলনামূলক কম, মানুষ পরিশ্রমী এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনুকূল।
তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিল্পের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এভাবে রংপুরকে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন।
তিনি উল্লেখ করেন, দানাদার শস্য, গবাদিপশু, ফলমূল ও পাথর-বালুর মতো সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফি, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও সভায় সরকারি কর্মকর্তা, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও রংপুর জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, কৃষি ও শিল্প উদ্যোক্তা, জেলা প্রশাসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।