
নববর্ষ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে তাঁত পল্লীতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিকেরা। এ উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যেই তাঁত পণ্য বিক্রিও শুরু হয়েছে। এতে তৎপর হয়ে উঠছে ব্যবসায়ীরাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো জেলার তাঁত সমৃদ্ধ এনায়েতপুর, সোহাগপুর ও শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাপড় ব্যবসায়ীরা আসছেন। তারা তাঁত মালিকদের বিভিন্ন রকমের বাহারি কাপড়ের অর্ডার দিচ্ছেন। এ অর্ডারে দিনরাত কাজ করে ব্যবসায়ীদের চাহিদা মতো কাপড় তৈরি করছেন তাঁত মালিকেরা। চাহিদা অনুযায়ী এবার তাঁত বস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ২শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালি, উল্লাপাড়া ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁত পল্লীতে খট খট আওয়াজে কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। এ ব্যস্ততায় কেউ তাঁতে শাড়ি বুনছে কেউ সুতা রং করছে আবার কেউ চরকায় সুতা তুলছে। এ উপলক্ষ্যে এ শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুঁজি সংকটের কারণে অনেক তাঁত মালিকই চাহিদা মতো শাড়ি, থ্রি পিচও লুঙ্গি সরবরাহ করতে পারছে না। এ বছর তাঁতের মাঝারি মানের শাড়ি ৫শ থেকে ৩ হাজার টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় বৈশাখী শাড়ির চাহিদা অনেক বেশি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে অগ্রিম টাকা দিয়ে অর্ডার দিচ্ছেন এবং ব্যবসায়ীরা সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস ক্রয় করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা হ্যান্ড লুম এন্ড পাওয়ার লুম এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী বৈদ্যনাথ রায় জানান, নববর্ষ উপলক্ষ্যে তাঁত কারখানাগুলো এখন বেশি সচল হয়ে উঠেছে এবং সেইসাথে কাপড় ব্যবসায়ীদের অর্ডারও আসছে। এবার ২০০ কোটি টাকার তাঁত পণ্য বিক্রি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।