ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরে আলু সংরক্ষণে নতুন ভরসা অহিমায়িত মডেল ঘর

রংপুরে আলু সংরক্ষণে নতুন ভরসা অহিমায়িত মডেল ঘর

আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণনে রংপুরে নির্মিত অহিমায়িত মডেল ঘর এখন কৃষকদের কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, সরকারের আলু সংরক্ষণ ও বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই ঘরে ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা যায়। এতে কৃষকের বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

একটি মডেল ঘর নির্মাণ করলে তা প্রায় ১৫ বছর ব্যবহার করা সম্ভব। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বসতবাড়িতে আলু সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করা।

বর্তমানে আলু উৎপাদনে দেশের শীর্ষ জেলা রংপুর হলেও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে এবং মৌসুমে দাম না পাওয়ায় অনেক সময় কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েন। এই সমস্যা সমাধানে জেলার রংপুর সদরসহ বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা ও পীরগঞ্জে মোট ১২১টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরে ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত আলু সংরক্ষণ করা যায়, ফলে লোকসানের ঝুঁকি কমে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানায়, মডেল ঘরটির দৈর্ঘ্য ২৫ ফুট, প্রস্থ ১৫ ফুট এবং উচ্চতা ১২ ফুট। মাটিতে ৫৪টি পিলারের ওপর কাঠের মাচা তৈরি করা হয়েছে। চারপাশে সিমেন্টের পিলার ও বাঁশের কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। ঘরের চারদিকে বাঁশের ৬ ফুট উঁচু বেড়া রয়েছে। ছাদে আলো-বাতাস চলাচলের জন্য জাল ব্যবহার করা হয়েছে এবং রোদ প্রতিরোধে রঙিন টিন ও তার নিচে তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ আবরণ দেওয়া হয়েছে। ঘরের ভেতরে চারটি গ্যাস পাইপ বসানো আছে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনে সহায়তা করে।

অধিদপ্তর আরও জানায়, বস্তাবিহীন অবস্থায় মাচা থেকে ৫ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সাধারণ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা যায়। সংরক্ষণের অন্তত ৩ দিন আগে কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত, কাটা, পচা বা রোগাক্রান্ত আলু আলাদা করে বাছাই করতে হয়।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, হিমাগারের তুলনায় এই ঘরে আলু সংরক্ষণ করে তারা দুই লাখ টাকারও বেশি সাশ্রয় করতে পারছেন। ফলে তারা ভবিষ্যতে আরও বেশি আলু সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাকিল আকতার বলেন, গৃহ পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ করলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি উৎপাদনও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, এটি শুধু ঘর নয়, বরং একটি লাভজনক উদ্যোগ। এখানে আলু ছাড়াও পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, মুখি কচু ও মিষ্টি কুমড়াও সংরক্ষণ করা যায়।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৬ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। তবে ৪১টি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। ফলে বাকি আলু সংরক্ষণে এই মডেল ঘরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অহিমায়িত মডেল ঘর,নতুন ভরসা,আলু সংরক্ষণ,রংপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত