
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় খামার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে লালন-পালন করা প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, যা জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ হাজার বেশি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদ্বৃত্ত পশুগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কিশোরগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি। প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৭৫ হাজার ২৬৭টি ষাঁড়, ৪ হাজার ১৩৪টি বলদ, ১৭ হাজার ৮৮৬টি গাভী, ৩ হাজার ৮৩৬টি মহিষ, ৮৪ হাজার ৯৪৩টি ছাগল এবং ৫ হাজার ২৯৮টি ভেড়া।
জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৪২টি পশুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত খামার ৩০টি। খামারিদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও বিপুল সংখ্যক পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার পশু খামারগুলোতে এবং বাকিগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারগুলোতে এখন চলছে পশুর বাড়তি পরিচর্যা। খামারিরা আশা করছেন, এ বছর বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খামারি আবদুল বাতেন বলেন, গত বছর গরু পালন করে লোকসান হলেও এবার বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।
কটিয়াদীর খামারি জলিল মিয়া জানান, গরু পালন করতে খাবার ও পরিচর্যায় অনেক খরচ হয়। কয়েকদিন ধরে ভুট্টাসহ উন্নত খাবার দিয়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
নিকলী উপজেলার খামারি খালেক মিয়া বলেন, দেশীয় খাবারে গরু ও মহিষ লালন-পালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইকাররা খামারে আসতে শুরু করেছেন। ভালো দাম না পেলে বাজারে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, খামারিদের শুরু থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহার না করেন। উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ পশু উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জেলায় উৎপাদিত পশুগুলো সম্পূর্ণ ড্রাগমুক্ত এবং সুস্থ। এ বছর উদ্বৃত্ত পশু বিক্রিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।