
মুন্সীগঞ্জ শহরের লিংক রোডের ইদ্রাকপুর এলাকাসহ কয়েকটি পয়েন্টের ড্রেনে কোনো স্লাব নেই। এর পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এ বিষয়টি যাদের দেখার দায়িত্ব, তারা না দেখার ভান করে চলছেন বলে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কয়েক দিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটি স্লাব ভেঙে যাওয়ায় এ পথে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অনেকটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
আবার অনেক স্থানে ড্রেনের ওপর থাকা স্লাবগুলো ড্রেন থেকে উঁচু হওয়ায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মাঝখানে ও কিনারায় ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত থইথই করে, ফলে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সড়কগুলোর নির্মাণশৈলী দেখে যে কারো মনে হতে পারে, এগুলো সঠিক পরিকল্পনার আওতায় নির্মাণ করা হয়নি। রাস্তার মাঝখান দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও বৃষ্টির পানি সেখানে না গিয়ে দু’পাশের কিনারায় জমা হচ্ছে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ড্রেনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ শহরের কৃষি ব্যাংকের পেছনের অংশ হচ্ছে ইদ্রাকপুর। এখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। এ কার্যালয়ের উত্তরের সড়কে অবস্থিত ১নং ইদ্রাকপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে সারা বছরই জলাবদ্ধতা থাকে। এর পেছনের অংশেও একই চিত্র দেখা যায়।
এখান থেকে উত্তর দিকে আরও একটি সড়ক চলে গেছে। ওই সড়কের আখড়া এলাকার লোকনাথ স্টোরের সামনের ড্রেনে কোনো স্লাব নেই। কয়েক দিন আগে সেখানে একটি স্লাব বসানো হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা ভেঙে যায়।
দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে সতর্কতামূলক সংকেত দিয়েছেন। এ সড়ক দিয়ে খুব সহজেই মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে যাওয়া যায়। সড়কটিতে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করে। ফলে নানা দিক থেকেই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড ও ৩নং ওয়ার্ডেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
১নং ইদ্রাকপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পশ্চিম দিকে আরও একটি সড়ক চলে গেছে। এ সড়কের একাংশে রয়েছে ইদ্রাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়। দুটি প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে ড্রেনের কয়েকটি স্লাবহীন স্থান রয়েছে। এর একটি বিনাক ভবন এলিনের বাড়ির সামনে এবং অন্যটি নির্ভরতা কোচিং সেন্টারের সামনে।
এসব স্থানে আগে নতুন স্লাব বসানো হয়েছিল। তবে সেগুলোর গুণগত মান নিম্নমানের হওয়ায় দ্রুত ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব কাজে অনিয়মের কারণে পৌরসভার অর্থের অপচয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ সড়কের মানিকপুরে বের হওয়ার পথে পটকা ফ্যাক্টরির কাছাকাছি ড্রেনের একটি অংশে কোনো স্লাব নেই। এতে সেখানে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমাদের কিছু স্লাবের টেন্ডার দেওয়া আছে। যেহেতু এটি জনদুর্ভোগের বিষয়, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব খুব দ্রুত এসব স্লাব পুনরায় বসানোর জন্য। আশা করি, সমস্যাটি খুব শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে।”