ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

লড়াই করে জিপিএ-৫, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা

লড়াই করে জিপিএ-৫, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা

অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেও সফলতা অর্জন করেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মোন্নাফ হোসেন। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। মোন্নাফ উপজেলার সিমলা গ্রামের নির্মাণশ্রমিক রফিকুল ইসলামের (৫০) ছেলে।

তবে ভালো ফলাফল করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সে। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন তার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। সীমিত আয় দিয়েই ছেলেকে ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। রফিকুল ইসলাম একজন নির্মাণশ্রমিক। তার স্ত্রী একটি এনজিও অফিসে পরিচারিকার কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রীর এই সামান্য উপার্জন দিয়েই চলে তাদের সংসার ও ছেলের লেখাপড়ার খরচ। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা পরিবারটির বাড়িভিটা ও দুটি ঘর ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই।

মোন্নাফ জানায়, পড়াশোনা শেষ করে সে সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়। কিন্তু বাবার অভাবের সংসারে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তারপরও বাবা-মায়ের উপার্জনের ওপর ভরসা করেই উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন দেখছে সে।

মোন্নাফ আরও জানায়, ২০২৪ সালে ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর স্থানীয় সরকারি বেগম নূরুন্নাহার তর্কবাগীশ কলেজের বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয়। এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। চরম কষ্ট ও অভাবের মধ্যেই তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

মোন্নাফের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলের অনেক আশা, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। কিন্তু সেই খরচ কীভাবে বহন করবেন, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এ অবস্থায় তিনি ছেলের উচ্চশিক্ষার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ওই সরকারি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, অসহায় পরিবারের সন্তান মোন্নাফ হোসেন একজন মেধাবী ছাত্র। নানা কষ্টের মধ্যেও ভালোভাবে লেখাপড়া করে সে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। তার উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিত্তশালীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা,বিশ্ববিদ্যালয়,জিপিএ-৫
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত