অনলাইন সংস্করণ
১১:১২, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর সোমবার (৫ জানুয়ারি) আদালতে হাজির করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আনা একাধিক অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে মাদুরো নিজেকে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে মার্কিন বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইনের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো বলেন, তিনি নির্দোষ এবং তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই সত্য নয়। একইভাবে সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতকে জানিয়েছেন, তিনিও সম্পূর্ণ নির্দোষ।
বিচারক হেলারস্টাইন তাদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকারের কথা জানালে মাদুরো ও ফ্লোরেস দুজনই কনস্যুলার সাক্ষাৎ চান। আপাতত তাদের কেউই জামিনের আবেদন করেননি।
মাদুরোর বিরুদ্ধে চার দফা অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কয়েক দশক ধরে চলা একটি তথাকথিত মাদক-সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দেওয়া, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদুরো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বড় পরিসরে মাদক পাচারে সহায়তা করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতভর পরিচালিত এক মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার পর এসব অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে তারা ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল ডিটেনশন কেন্দ্রে আটক রয়েছেন।
আদালতে মাদুরো বলেছেন, তাকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিজের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। পরে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে অপহরণ করেছে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন সেনা মোতায়েনসহ আপাতত ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৭ মার্চ নির্ধারণ করেছেন।
অন্যদিকে, সিলিয়া ফ্লোরেসের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন হিউস্টনভিত্তিক আইনজীবী ও সাবেক মার্কিন বিচার বিভাগীয় কৌঁসুলি মার্ক ডনেলি।