অনলাইন সংস্করণ
১৩:৩২, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৬
কয়েক দফা দাবিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের লাঠিপেটা করে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান, রায়টকার ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যে একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা সড়ক ছেড়ে দেন। পরে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।
জানা গেছে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে রোববার পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি।
ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। তারা সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিপেটা করে ব্যবসায়ীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আবার সড়কে এসে বসে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। পরে ফের লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ব্যবসায়ীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশি তৎপরতার পর কারওয়ান বাজার এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর লাগাম টানতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেজে। এ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা।