অনলাইন সংস্করণ
১৭:১৭, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, আসন্ন গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী না হয় এবং ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঘটবে এবং তা কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর লক্ষ্যেই মূলত এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপে শামসুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গণভোট: ২০২৬, কী এবং কেন?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
মনির হায়দার বলেন, ভোটে সাধারণত দুটি ফলাফলই হয়—বিজয় অথবা পরাজয়। প্রার্থী থাকুক বা না থাকুক, এবারের গণভোটেও এর ব্যতিক্রম হবে না। তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে যে বিষয়টি জনগণের সামনে আনা হয়েছে, তা জনগণের অনুমোদন পাবে। আর ‘হ্যাঁ’ জয়ী না হলে সেই অনুমোদন মিলবে না এবং এর ফল হিসেবে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি হঠাৎ করে কারও ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে তৈরি হয়নি এবং রাজনৈতিক দলগুলোও হালকাভাবে এতে স্বাক্ষর করেনি। জুলাই সনদ একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। জাতির পক্ষে সরকার, রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা, গবেষণা ও পরামর্শের মাধ্যমে এই সনদ প্রণয়ন করেছেন।
জুলাই সনদকে ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর কার্যকর ব্যবস্থাপত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকানোর প্রেসক্রিপশনই হলো এই সনদ। যদি এই ব্যবস্থাপত্র জনগণের অনুমোদনের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে এবং সেটির দায়ও আমাদেরই নিতে হবে।
তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন মনির হায়দার। তিনি বলেন, এখনো সাধারণ ভোটারদের কাছে সনদের অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ, সংস্কার ও গণভোটকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা, অপপ্রচার এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার নানা তৎপরতা সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, তাদের ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুতদের এখনো অন্তত দুটি বড় শক্তি রয়েছে। একটি হলো লুটপাটের বিপুল অর্থ, অন্যটি হলো দেশি-বিদেশি কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর অব্যাহত মদদ। এই দুই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।