অনলাইন সংস্করণ
১৮:১৮, ২১ মে, ২০২৬
যতদিন সরকার প্রয়োজন মনে করবে, ততদিন সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর গুলি চালনা প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে সেনাবাহিনী দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করছে এবং এখনো সেই দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে দেশের ৬২ জেলায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। কিছু সেনাসদস্যকে ফিরিয়ে আনা হলেও পুরোপুরি প্রত্যাহার এখনো সম্পন্ন হয়নি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ধীরে ধীরে সবাই ব্যারাকে ফিরে যেতে পারবেন। তবে দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। বর্তমানে জ্বালানি ডিপোগুলোতেও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হচ্ছে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রাখা। দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করায় নিয়মিত গুলি চালনা ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। এখন আবার ধাপে ধাপে সেসব কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতায় সেনাসদস্যদের দক্ষতা দেখে তিনি আশাবাদী। দীর্ঘ সময় মাঠে দায়িত্ব পালনের পরও সেনাবাহিনীর গুলি চালনার সক্ষমতা কমেনি, যা ইতিবাচক দিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও পেশাগত প্রস্তুতি বজায় রাখার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান সেনাপ্রধান।
পরে তিনি বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
জানা গেছে, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, রসদ এলাকা, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হয়।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।