ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে বিএমইউতে গোলটেবিল আলোচনা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে বিএমইউতে গোলটেবিল আলোচনা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার

আগামী ২৫ মে পালিতব্য বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ও আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এ গোলটেবিল আলোচনা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিনমাস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আকারে ছোট হলেও থাইরয়েড গ্রন্থি মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ থাইরয়েডজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে দেরি হলে শারীরিক জটিলতা এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, থাইরয়েড মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং এ রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজন চিকিৎসকদের জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েডজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি সাতজন রোগীর মধ্যে পাঁচজনই নারী এবং আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশ চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছেন। প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, গলগণ্ড ও থাইরয়েড ক্যানসারের মতো রোগ এ গ্রন্থিকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে। পরিবারে বাবা-মায়ের থাইরয়েডজনিত সমস্যা থাকলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

অধ্যাপক বারী আরও বলেন, জন্মের পরপরই, বয়ঃসন্ধিকালে, গর্ভধারণের আগে এবং ৫০ বছর বয়সের পর অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। বর্তমানে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুই ব্যবহার করে থাইরয়েড টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা কম খরচে ও কম ঝুঁকিতে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণামূলক কার্যক্রমও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে থাইরয়েড রোগের আধুনিক চিকিৎসা, আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টিং পদ্ধতি এবং রোগ শনাক্তকরণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি, বিএমইউ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যসাংবাদিকরা অংশ নেন।

বৈজ্ঞানিক সেমিনার
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত