ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিডনিতে নিজের দুই সন্তান এবং স্ত্রীকে খুন করে পুলিশে কল দিলেন প্রবাসী বাংলাদেশী

সিডনিতে নিজের দুই সন্তান এবং স্ত্রীকে খুন করে পুলিশে কল দিলেন প্রবাসী বাংলাদেশী

সিডনির ক্যাম্পবেলটাউনে নিজ ঘরে স্ত্রী ও দুই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী বাংলাদেশী সুমন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ক্যাম্বেল্টাউন এলাকায় মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী অভিযুক্ত সুমন আহমেদকে মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হয়ে আসেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালক সুমন আহমেদ।

অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে তিনি নিজের বাসভবনে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যাম্পবেলটাউনের রেমন্ড অ্যাভিনিউ এলাকার একটি বাড়িতে। স্থানীয়রা জানায়, এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গভীর শোকের বিষয়। তিনি মনে করেন, সমাজে পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে আরও সচেতনতা জরুরি। মঙ্গলবার আদালতে অভিযুক্তকে সরাসরি উপস্থিত করা না হলেও, তার আইনজীবী হোসাইন সাংবাদিকদের জানান যে তার মক্কেল বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন।

তিনি বলেন, এই ঘটনা নিহত পরিবারের স্বজনদের পাশাপাশি পুরো কমিউনিটিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিন্টেনডেন্ট মাইকেল মরোনি জানান, সোমবার রাতে অভিযুক্ত নিজেই জরুরি নম্বর ‘ট্রিপল জিরো’-তে ফোন করে বাড়িতে গুরুতর একটি ঘটনার কথা জানায়। পরে রাত প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির ভেতরে ৪৬ বছর বয়সী এক নারী এবং ১২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত শিশু দুজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিল এবং তাদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন অভিযুক্ত নিজেই। মরদেহগুলোর শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হলেও কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

এছাড়া এর আগে পরিবারটির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ ছিল না বলেও জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের স্মরণে বাড়ির সামনে ফুল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি রেখে যাচ্ছেন। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় বহু নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই ট্র্যাজেডি আবারও দেশটিতে পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সিডনি,প্রবাসী বাংলাদেশী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত