
বরগুনার পাথরঘাটায় শিক্ষালয় নয়, যেন এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এমনই করুণ ও আতঙ্কজনক চিত্র উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়নের ১৩১নং হরিদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
বিদ্যালয় ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের দেয়াল থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই চলছে নিয়মিত পাঠদান। এরইমধ্যে দেয়াল থেকে খসে পড়া পলেস্তারা ও ভবনের ভগ্নাংশে একাধিকবার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় ভবনটি ২০২১ সালেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের চারপাশে নেই কোনো খেলার মাঠ বা নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা। ভবনের সিঁড়ি থেকে এক পা বাড়ালেই ধানখেত সেখানে বর্ষার সময় স্কুলের চারদিকে পানি থৈথৈ করে। যা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ থাকা মাঠের জমি দখল করে স্থানীয়ভাবে ধান রোপণ করা হচ্ছে। ফলে খেলাধুলা তো দূরের কথা, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এই বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে কারণে সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী উপস্থিতিতে। একসময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করলেও বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০ জনেরও নিচে নেমে এসেছে। অভিভাবকদের অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ বদিউজ্জামান সাহেদ বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নিয়মিত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা অবিলম্বে এই ভবনে পাঠদান বন্ধ করে একটি নতুন ও নিরাপদ ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি কর্তৃপক্ষের কাছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ের ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আমরা শিক্ষকরা এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিনাত জাহান বলেন, ১৩১নং হরিদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন, বিদ্যালয়ের মাঠ এবং সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ক্ষুব্ধ একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন টেকসই ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে দখল হয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ও খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যার দায় এড়াতে পারবে না সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।