
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান পৃথক সময়সূচিতে গোপালগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন।
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও একজন গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ভোটারের এক শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় আশরাফুল আলম, নাজমুল আলম ও মো. কাইয়ুম আলি খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপির অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বাতিল হওয়া ছয়জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- কামরুজ্জামান ভূইয়া, শিপন ভূইয়া, রনি মোল্লা, মশিউর রহমান, সিরাজুল ইসলাম ও উৎপল বিশ্বাস। এর মধ্যে পাঁচজনের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। উৎপল বিশ্বাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয় ঋণ খেলাপি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত ত্রুটির কারণে।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বাতিল, ২ জনের মনোনয়ন স্থগিত এবং ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক ও রওশন আরার ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নতুন ব্যাংক হিসাব না থাকায় গণফোরাম মনোনীত দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস এবং হলফনামায় সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আবদুল আজিজের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বিধি অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।