
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলায় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মতি মিয়াসহ দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত মতি মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গতকাল রোববার সকালে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার মোবারকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে ফেরদৌস মিয়া (৪৭) ও মৃত আব্দুল রশিদ মিয়ার ছেলে মো. মতি মিয়া (৫২)। মতি মিয়া একই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। অভিযুক্তরা হলে- উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের তোফাজ্জল মিয়া (৪৫), তার ভাই হুমাউন মিয়া (৪০), হুমাউনের ছেলে মুগ্ধ (২৩) একই গ্রামের মো. শান্ত মিয়া (৬৫) ও আবুল হোসেন (৬৫)। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোবারকপুর এলাকায় বিআরডিবির আওতায় একটি বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প রয়েছে। ১৫-১৬ দিন আগে সেচ পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। কমিটিতে থাকা পূর্বের অনেক সদস্য পরিবর্তনের চেষ্টা চালায় প্রভাবশালী একটি মহল। বিষয়টি নিয়ে মতি মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে তোফাজ্জলের লোকজনের সঙ্গে।
বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে মোবারকপুর গ্রামে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে এলাকার গণ্যমান্যরা। হঠাৎ দেশীয় অস্ত্রসহ সালিশে হামলা চালায় তোফাজ্জলসহ তার লোকজন। এ সময় ফেরদৌসের মাথায় রামদার আঘাতে গুরুতর জখম হয়। তার মাথার ক্ষতস্থানে আটটি সেলাই লেগেছে। এদিকে ফেরদৌসকে বাঁচাতে গিয়ে মতি মিয়ার হাতেও রামদার আঘাত লেগে জখম হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত তোফাজ্জল মিয়া ও হুমাউন মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।