
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাইয়ে পাঁচ জেলায় ৬০ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তারা। গতকাল রোববার ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে ১২ জনের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তথ্যে গরমিল, ঋণখেলাপ এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা পূরণ না করায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- মতিউর রহমান, মুশফিকুর রহমান, এবি সিদ্দিক, আল ফাত্তাহ এবং আলমগীর মাহমুদ আলম।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তথ্যে গরমিল এবং হলফনামায় ভুল তথ্য প্রদানের কারণে তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এর মধ্যে মুশফিকুর রহমানের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর ছিল না এবং এবি সিদ্দিক ঋণখেলাপী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ভোটার তালিকায় অসংগতির কারণে হাসিনা খান চৌধুরী, মামুন বিন আব্দুল মান্নান এবং পিন্টু চন্দ্র বিশ্ব শর্মার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপীর দায়ে এ.আর খান ও শামছুল ইসলামের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষিত হয়। ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান ভূঞার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বাকি সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা।
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনে জমা পড়া ৩৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৬টি বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। এরমধ্যে পাঁচজন স্বতন্ত্র ও একজন দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা এবং জেএসডির গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে হাবলু মোল্লার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল আহসানুল হকের মনোনয়নও বাতিল হয়েছে। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির খাইরুল ইসলাম এ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, খাইরুল ইসলাম সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন বিধি অনুযায়ী অব্যহতি না থাকায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে, আর শেখ সাদী ও আনসার প্রামানিকের মনোনয়নপত্রে ভুল থাকায় তা বাতিল করা হয়। তবে বড় দলের মনোনীত কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ও নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জে এমপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে জাতীয় পার্টির একাংশের আলোচিত নেতা মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রূপালী ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। গতকাল রোববার ছিল কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১,২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই বাছাই। গত শনিবার ছিল কিশোরগঞ্জ ৪, ৫ ও ৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই। গতকাল সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার নেতৃত্বে চলে এ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। এ সময় পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে তিন আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই স্বতন্ত্রপ্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে শতকরা একভাগ ভোটারের স্বাক্ষরের গরমিল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া কয়েকজন প্রার্থীর সম্পদের হিসাব, হলফনামায় ত্রুটি ও মামলার তথ্য গোপন ও ঋণ খেলাপির কারণ দেখানো হয়। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে প্রার্থী ছিলেন মোট ১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী, স্বতন্ত্রপ্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) মো. রোজাউল করিম খান চুন্নু, খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, স্বাতন্ত্রপ্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) রুহুল হোসাইন ও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ভাগ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়া যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-২ ( পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের ( বিএনএফ) বিল্লাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল বাসার রেজওয়ান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির একাংশের আলোচিত নেতা মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আলমগীর ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গত শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন ২৯ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সবমিলিয়ে দুদিনে ৬১ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে মোট ৩৭ জনের মনোনয়নপত্র।
সিরাজগঞ্জ : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাক্ষর গড়মিলসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল রোববার সকাল থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহিদ শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে সিরাজগঞ্জ-৪ আসন (উল্লাপাড়া), সিরাজগঞ্জ-৫ আসন (বেলকুচি-চৌহালী) ও ৬-আসন (শাহজাদপুর) এ ৩টি আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় সিরাজগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে ২ জন করে এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ৩ জন মোট ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। এরআগে গত শনিবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ-১ আসন (কাজিপুর-সদরের একাংশ), সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর-কামারখন্দ), সিরাজগঞ্জ-৩ আসন (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) এ ৩টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আব্দুস সবুর (স্বতন্ত্র) ও নাজমুস সাকিব (নাগরিক ঐক্য), সিরাজগঞ্জ-২ আসনে সোহেল রানা (জনতার দল) ও আনোয়ার হোসেন (কমিউনিস্ট পার্টি) এবং সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ইলিয়াছ রেজা রবিন (স্বতন্ত্র) ও মুহা. আব্দুর রউফ সরকার (খেলাফত মজলিস)। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এরমধ্যে ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। ১ শতাংশ ভোটার স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর হোসাইন ও দলীয় মনোনয়নের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় সিপিবি প্রার্থী আব্দুল হাকিমের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১ শতাংশ ভোটার স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলা খান বাবলু ও দলীয় মনোনয়নের স্বাক্ষরে ভুল থাকায় সিপিবি প্রার্থী মতিয়ার রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ায় শফিকুল ইসলাম ছালাম, ১ শতাংশ ভোটার স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় সতন্ত্র প্রার্থী ওয়াসেক বিল্লাহ খান মজলিস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের ৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে জেলা রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক। গতকাল সকালে মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনে ৩১ জন প্রার্থী মনোনয়পত্র জমা দেন। জেলায় ৪টি আসনের মোট ভোটার ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৪ জন। নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৪ জন এবং হিজরা ৮ জন। গত শনিবার যাচাই-বাছাইয়ে ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণ থাকায় ও যথা নিয়মে ফরম পূরণ না করা, হলফ নামার কাগজপত্র ত্রুটি থাকায় ৪টি আসনের ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে যাচাই বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।