ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বল সুন্দরী বরই চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক

* পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ শুরু হয়েছে * বিশাল জায়গায় চারা রোপণের ১ বছরের মধ্যেই গাছগুলোতে ফলে ভরপুর হয়ে উঠে * আবহাওয়া ভালো থাকলে যাবতীয় খরচ বাদে এই চাষ থেকে তার এ বছর দুই লক্ষাধিক টাকা আয় হবে
বল সুন্দরী বরই চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক

এক একটি গাছ ৫-৬ হাত লম্বা। গাছের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে শুধু বল সুন্দরী বরই। ওই ওয়াল সুন্দরী বরই ওপরের অংশে হালকা সিঁদুর রং রয়েছে। ফলটি আকারে বড়, দেখতে ঠিক আপেলের মতো। খেতেও ঠিক আপেলের মতো সুস্বাদু। বাগানের সারি সারি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা বরইয়ের দৃশ্য দেখে যে কারো মন জুড়িয়ে যায়। বাগানের চারিপাশে পাখিদের কিচিরমিচির ডাক আর বড়ই খাওয়ার চেষ্টা, কৃষক তাড়িয়ে দিচ্ছে পাখিদের, দেখে মনে হয় ফলের সমারোহ।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ শুরু হয়েছে। এ চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন উপজেলার পূর্ব মির্জাগঞ্জ গ্রামের তালতলী স্লুইসগেট এলাকার কৃষক মো. নাসির উদ্দিন মৃধা (৪৫)। বিশাল জায়গায় চারা রোপণের ১ বছরের মধ্যেই গাছগুলোতে ফলে ভরপুর হয়ে উঠে। বাজারে এই কুলের চাহিদা ও দর ভালো হওয়ায় কৃষক নাসিরের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক। আবহাওয়া ভালো থাকলে যাবতীয় খরচ বাদে এই চাষ থেকে তার এ বছর ২ লক্ষাধিক টাকা আয় হবে বলে জানান তিনি।

প্রথম দিকে স্বল্পপরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তার ৪৪ শতাংশ জায়গা জুড়ে এই বাগান রয়েছে। বল সুন্দরী ফল চাষ করে এরইমধ্যে তিনি এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। দূর দূরান্ত থেকে অনেক বেকার লোকজন এসে দেখছেন এবং বিষয়ে নানা পরামর্শ তার কাছ থেকে নিচ্ছেন। কৃষক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ধান ও শাকসবজি চাষাবাদের পাশাপাশি তার একটি মাছের ঘের রয়েছে।

গত চার বছর আগে সেই ঘেরের চারপাশে তিনি আমগাছের চারা রোপণ করেন। পরে বাজারে গিয়ে বল সুন্দরী বরই দেখতে পেয়ে সেটি চাষে তার আগ্রহ জাগে। ভাবনানুযায়ী ঘেরের পাড়ে রোপণকৃত আম গাছের মাঝখানের ফাঁকা পতিত জমিতে কিছু সংখ্যক বল সুন্দরী বরই চারা রোপণ করেন। বছরখানেকের মধ্যেই তাতে সন্তোষজনক ফলন আসলে তিনি পর্যায়ক্রমে ৪৪ শতাংশ জমিতে এই বড়ইয়ের বাগান করেন।

বর্তমানে তার বাগানে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে মোট ৫৫টি বল সুন্দরী বরই গাছ আছে। যা থেকে গত বছর এক লাখ টাকার বড়ই বিক্রি করেছেন এবং এ বছর প্রায় ২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

প্রথম দিকে তার খরচের হিসাব না থাকলেও গতবছর থেকে প্রতিবছর সব মিলিয়ে মোট ৩০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি। স্বল্প খরচে অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ায় এখন বরই চাষিকেই তিনি মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান নাসির। প্রথম দিকে তিনি নিজ উদ্যোগে এই বরই চাষ শুরু করলেও বর্তমানে উপজেলা কৃষি বিভাগও তাকে প্রণোদনা ও সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, একটা সময় এ এলাকার শুধু ধান চাষ হতো। এখন পাল্টে গেছে ফসলের মাঠগুলো।

কৃষক আর শুধু একটি ফসলেই নির্ভরশীল নয়। তারা নিজের প্রয়োজনেই খুঁজে নিয়েছে বিকল্প আর রকমারি ফসল। মাঠ ভরে আছে মৌসুমী সবজিসহ নানা ফলে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষক নাসির উদ্দিনকে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সব ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বল সুন্দরী বরই চাষে তার সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরা এর বাগান করতে আগ্রহী হবেন বলে আশা করি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত