
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁয় ব্যাপক-উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে নারীদের মধ্যেও। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নানান জনের নানা মত। তবে নির্বাচনে জয় পরাজয়ের ক্ষেত্রে নারী ভোটার বড় নির্ধারক হতে পারে।
নারীরা সংরক্ষিত আসনে নয়, সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করে নির্বাচনে অংশ নিবে। যারা নিশ্চিত করবে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা। আগামী সরকার নারীবান্ধব হবে এবং যারা সমাজ ও দেশের উন্নয়ন করবে। শুধু ভোটেই সীমাবদ্ধ না থেকে সম অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের গুরুত্ব দেওয়া এবং উদ্যোক্তাবান্ধব হবে এমন সরকার প্রত্যাশা করেন নারীরা।উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলার আয়তন ৩ হাজার ৪৩৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে- ৬টি সংসদীয় আসনে জেলার মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন।
এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গে ভোটার ২১ জন। জেলায় পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। পুরুষের পাশাপাশি রয়েছে নানা শ্রেণি পেশার নারী ভোটার। ৬টি সংসদীয় আসনে এবার বিএনপি, জামায়াত, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন ঘিরে পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন নারীরা। নির্বাচন নিয়েও ভাবছেন নারী উদ্যোক্তারা। শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার নারী উদ্যোক্তা শামিমা খানম বলেন- কর্মসংস্থান কম থাকায় একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছি। এতে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে স্বল্পপূঁজির কারণে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসা বড় করতে প্রয়োজন অর্থের। তাই সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ-সুবিধা পাবেন এমন সরকার প্রত্যাশা করছি। নারীদের মূল্যায়ন করবে এবং ব্যবসাসহ উদ্যোক্তার সুযোগ-সুবিধা বাড়াবে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন নারীরা। আগামী নির্বাচনে ভোট প্রদানের জন্য মুখিয়ে আছেন তারা। শহরের মুক্তির মোড়ে ফুটপাতে মাশকালাই রুটি বিক্রেতা গৃহবধু মোমেনা বেগম বলেন- শুধু ভোটের সময়ই নারীদের দরকার হয়। ভোট শেষ হলে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অনেকে খোঁজই রাখে না। তবে বঞ্চিত নারীদের মূল্যায়নসহ গুরুত্ব দিবে এমন সরকার প্রত্যাশা করছি।
অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচন হওয়ায় নতুন ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে বেশ উচ্ছ্বাস। জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের নতুন ভোটার আয়েশা সিদ্দিকা বলেন- কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই। এজন্য কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খার বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে না। আইনশৃঙ্খলার নিরাপত্তা ও সংখ্যা বাড়াতে হবে। একুশে পরিষদ নওগাঁর সহ-সভাপতি নাইচ পারভীন বলেন- নির্বাচনের আগে প্রতিটি দলের প্রার্থীদের কথার ফুলঝুঁড়ি থাকে। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল থাকে না। তবে এবারের নির্বাচন আমরা কিছুটা ব্যতিক্রম আশা করছি। কারণ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ ছিল অন্যরকম।
মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং দেশের প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে নারীদের ব্যাপক ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি বলেন- দুঃখজনক হলেও সত্য আন্দোলন ও সংগ্রাম শেষে নারীদের আবারও ঘরে প্রবেশ (বন্দি অবস্থা) করার একটা পায়তারা চলে। এবারে নির্বাচনে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে নারীদের সংরক্ষিত না করে তারা যেন সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। নওগাঁ জজকোর্টের আইনজীবী সুমাইয়া আক্তার শিথী বলেন- নারীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না। কোনো প্রতীকে ভোট দিতে হবে তা আগেই পরিবার থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগ নয়, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে আগামী নতুন সম্ভাবনার পথ উন্মোচিত হবে। আগামীতে যে সরকারই আসুক না কেন নারীবান্ধব হবে এবং তাদের গুরুত্ব দিবে বলে মনে করছি।