ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

আমের মুকুলের গন্ধে বসন্ত ঋতুতে মধুমাসের হাতছানি

আমের মুকুলের গন্ধে বসন্ত ঋতুতে মধুমাসের হাতছানি

‘মন যে আমার উদাস উদাস আমণ্ডকাঠালের গন্ধে, যাব বাড়ি খাব আম গ্রীষ্মকালীন বন্ধে।’ প্রকৃতিতে এখন মন উদাস করা গ্রীষ্ম কালীন ফল আমণ্ডকাঁঠালের হাতছানি চলছে। মধু মাসের রসালো ফল আম গাছের ডালে ডালে মুকুলে মুকুলে মঞ্জরিত। সোনালি আভার মুকুলের দৃশ্যে বিমোহিত হচ্ছে মানুষের মন। মুকুলের মণ্ডম গন্ধে মধু মাসের জানান দিচ্ছে। নানান জাতের আমের গাছে ছেয়ে যাওয়া মুকুলে হৃদয় উৎকীর্ণ হচ্ছে। রাস্তার পাশে, ঝোঁপঝাড়ে, বাড়ির আঙিনা আর সখের বাগানের সারি সারি আম গাছের ডাল, মগডালের সর্বত্রই আমের মুকুলে এখন হৃদয় ছোঁয়া দৃশ্য। সোনালি মুকুলের সজীবতার আভায় বিমোহিত হচ্ছে মন। ভোলার চরফ্যাশনে চাষী বা বাসাবাড়ির গৃহস্থরা মুকুল আসা আম গাছের পরিচর্যা করছেন নিয়মিত। কীটনাশক প্রয়োগ বা গাছে পানি ছিটিয়ে চেষ্টা করছেন গাছে আসা অসংখ্য মুকুলের যাতে যথেষ্ট পরাগায়ন হয়। স্থানীয়রা আশা করছেন এ বছর চরফ্যাশনে আমের ভাল ফলন হবে। তারা বলেন, আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকুল। তবে দু’একদিন থেকে গভীর রাতে কুয়াশা পড়ায় তাদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশনে ২৩০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগানে বারি ৪, কাটিমন হাঁড়িভাঙা, ফজলি, আম্রপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ হাইব্রিড জাতসহ বিভিন্ন স্থানীয় জাতের আমের ফলন রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে হাইব্রিড জাতের আম চাষ হলেও গৃহস্থবাড়িতে হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের আমের ফলন হয়েছে।

আসলামপুর ইউনিয়নের আলি রাজা মিয়া বলেন, চরফ্যাশনের বিভিন্ন এলাকার বাগান, গৃহস্থ বাড়িতে লাগানো আম গাছে গাছে মুকুল শোভা পাচ্ছে। বেশিরভাগ গাছেই মুকুলে ছেয়ে গেছে সব ডালপালা। সব গাছেই মুকুল বের হয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের ভাল ফলনের আশা করছেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, এখানে আম্রপালি, বারি ৪, কাটিমনসহ বিভিন্ন উন্নত জাতসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়। ফেব্রুয়ারি মাস হতে আমের মুকুল আসা শুরু হয়েছে গাছে গাছে। মুকুলে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন জাতের আম বাগানের গাছগুলো। এ সময়টাতে মুকুল ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক ছিটাতে হবে। গুটি ঝরা রোধে আমের গুটি মটর দানার মতো হলে একবার এবং মার্বেল আকৃতির হলে একবার অনুমোদিত ছত্রাকনাশক এবং কীটনাশক স্প্রে করে মুকুল ঝরে পড়া রোধে পর্যাপ্ত পরিচর্যা নিতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত