
সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।
চট্টগ্রাম : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল সূর্যোদয়ের পর নগরীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান মেয়র। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে আমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সব বীর সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। যারা আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের অবদান জাতি কখনও ভুলবে না।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে দেশের পক্ষে অবদান রাখা সব বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের দায়িত্ব। মেয়র দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, বিপ্লব উদ্যান, বধ্যভূমি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানাসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা।
রংপুর : দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকালে শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে সর্বস্তরের মানুষ। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল ইসলাম মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা প্রদান করেন- রংপুর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী, রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম মিয়া, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবার, শহিদ পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সিরাজগঞ্জ : রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ দিবস পালিত হয়। এরপর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব শহিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রবির অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ স্থাপিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রবির ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এসএম হাসান তালুকদার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া, ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদ। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় রবির বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা অর্পণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রবির ভিসি বলেন, যে মহান উদ্দেশে বলীয়ান হয়ে জাতির সূর্য সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। সেই শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে এবং এ উদ্দেশে নিজেদের নিযুক্ত করলেই তাদের আত্মা শান্তি পাবে। যে উদ্দেশে স্বাধীনতা অর্জন করেছি সেটি সফল হবে। ভিসি উপস্থিত সবাই সেই উদ্দেশে দীপ্ত শপথ গ্রহণ করে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান।
মুন্সীগঞ্জ : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের মানুষ। প্রথম প্রহরে শহরের পুরাতন কাচারিতে অবস্থিত শহিদদের নাম সংবলিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। সকালে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। এরপর পর্যায়ক্রমে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদত হোসেন মানু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট, জেলা সিভিল সার্জন, সদর উপজেলা প্রশাসন, জেলা বিএনপি, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধা জানান। এ সময় জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের নারী, শিশু ও পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও একযোগে শহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপিসহ নানা সংগঠন অংশ নেয়। মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার-সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে।
দিনাজপুর : দিনাজপুরে উৎসব মুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরণ করেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, মসজিদে মসজিদে বিশেষ মুনাজাত ও অন্যান্য উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, হাসপাতাল-কারাগার, ভবঘরে কেন্দ্রগুলো ও শিশু সদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ইত্যাদি। সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপতধনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা শুরু করা হয়। দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত শহিদ স্মতিস্তম্ভে ফুলের তোড়া দিয়ে শহিদদের প্রতি প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দিনাজপুর সদর আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। পরে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. রিয়াজউদ্দিন।
এ সময় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির নেতৃত্বে জেলা বিএনপির নেতারা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা, পৌর বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, তাঁতীদল, মহিলাদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এছাড়া দিনাজপুর প্রেসক্লাব, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সংগঠনের নেতাকর্মী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গোর-এ-শহিদ বড় মাঠে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মাননা সংবর্ধনা পুরস্কারের বিতরণে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
পাবনা : পাবনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ দুর্জয় পাবনায় পু®পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল পাবনা জেলা শাখা, বিচারবিভাগ, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আক্তারুজ্জামান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসেন, সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা প্রশাসক, উপ-পরিচালক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শহিদুল মান্নাফ কবীর, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি, নেসকো জাতীয়তাবাদী বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রেসক্লাব, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ পাবনা সদর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সামাজিক বনবিভাগ, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র্যাব ১২ সিপিসি২, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিআরটিএ, মৎস্য অধিদপ্তর, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, শাপলা ক্লাব, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, পাবনা জেলা স্কুল, পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, সড়ক জনপথ বিভাগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পাবনা প্রতিশ্রুতি, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, বিসিক, জাগির হোসেন একাডেমি, আইডিইবি, মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পাবনা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১ ও ২ নেসকো, বিটিসিএল অফিস, জেলা কারাগার, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা তথ্য অফিস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পাবনা সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এরপর শহিদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্কয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রর্দশন করা হয়। এছাড়াও জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে তাদের সংবর্ধনা দেওয়াসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
মৌলভীবাজার : যথাযোগ্য মর্যাদায় মৌলভীবাজারে মহান স্বাধীনতা মহান দিবস পালিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মৌলভীবাজার রাজনগর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তহিদুজ্জামান পাভেল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনসহ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াত, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানান। পরে সকাল ৮টায় এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শনে অংশ নেন।
কুড়িগ্রাম : মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে প্রথম প্রহরে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সকাল ৫টা ৫৯ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে জেলার স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভে বীর শহিদদের স্মরণে বিনম্র চিত্তে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, এনসিপি, জেলা প্রেসক্লাব কুড়িগ্রাম, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর আবেগঘন পরিবেশে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয় এবং দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়।
গাইবান্ধা : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির শুরু হয়। একই সময়ে পৌর পার্কের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে পৃথক পৃথকভাবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীনসহ রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকাল ৮টায় স্থানীয় শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক ও তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার। সে সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করা হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়ামে চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ। সকাল ১১টায় ইনডোর স্টেডিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য আব্দুল করিম। এছাড়া বাদ জোহর জাতির শান্তি সমৃদ্ধি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুর ২টায় হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশ, বিকাল ৩টায় তাজ সিনেমা হলে স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী, বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীপুরের স্মৃতিসৌধ ৭১-এ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দিবসটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের মধ্যে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। দুপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় এমপির নেতৃত্বে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মুরাদনগর : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে এক আবেগঘন ও বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত উপজেলা পরিষদ মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধান অতিথি বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এ সময় তিনি অসহায় ও নিম্নবিত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খাঁন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
পূর্বধলা : যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেত্রকোনার পূর্বধলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। গতকাল সকালে উপজেলা চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সাংবাদিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় পূর্বধলা জেএম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্বধলা সরকারি কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও আকর্ষণীয় ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার ও পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন। এছাড়া শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে।
নবীনগর : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নবীনগরের সাংসদ, উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন। এরপর শহিদ বেদীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে প্রশাসনের বিভিন্নস্তরের কর্তা ব্যক্তিরা, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন- মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। অসংখ্য শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সব বীর শহিদদের। স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। তার সাহসী ঘোষণা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সকাল ৮.৩০ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা, শিশুদের অংশগ্রহণের চিত্রাঙ্কন ও সুন্দর হাতের লেখা প্রদর্শনী, প্রীতি ফুটবল ম্যাচসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ডোমার : নীলফামারীর ডোমারে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ৩১ তোপধ্বনির মাধ্যমে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ে স্বাধীনতা বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন উপজেলা প্রশাসন। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, রাজনৈতিক দল, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। গতকাল সকাল ৯টায় ডোমার হাইস্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। এ সময় নীলফামারীর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সাত্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ ত্বন্বী, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (ডোমার সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী, ওসি মো. আব্দুল্লাহ, ডা. আইনুল হক, বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান সুমন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. মোজাফ্ফর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বড়াইগ্রাম : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। গতকাল ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এম লুৎফর রহমান, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এবিএম ইকবাল হোসেন রাজু, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম ও বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
রাণীশংকৈল : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক খুনিয়াদিঘি স্মৃতিসৌধে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এ সময় স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে সকাল ৯টায় রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। এরপর একই স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, বিদেশি চন্দ্র রায়, হবিবর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মিনাতুল্লাহ এবং এনসিপি নেতা শাহজাহান বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন- উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনি। পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
ঈশ্বরগঞ্জ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। পরে শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাসহ সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টায় উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রধান অতিথি স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীন।
এ সময় পুলিশ বাহিনীর সালাম গ্রহণ করেন। পরে কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্কাউট সদস্য, পুলিশ, আনসার ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা হলরুমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বর্তমান প্রজন্মের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হলুদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনিসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
দাউদকান্দি : বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার বিশ্বরোডে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিশ্বরোডে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংবাদিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টায় দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরীন আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম, দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম শহিদদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।
দাউদকান্দি মডেল থানা ও হাইওয়ে পুলিশ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিন সকাল ৮টায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতারা। এ সময় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ ভূইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন আহমেদ, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পৌর সদস্য সচিব কাউছার আলম সরকার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার প্রমুখ। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় দাউদকান্দি আদর্শ (পাইলট) উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, আনসার ভিডিপি, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং বেলা ১১টায় উপজেলা হলরুমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার সদস্যদের সবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ সব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরীন আক্তার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম, দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একে সামছুল হক। এছাড়া দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজন, সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।
কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি দিয়ে নব নির্মিত উপজেলা চত্বর স্মৃতিসৌধে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, কাপাসিয়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, শিক্ষক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, কাপাসিয়া প্রেসক্লাব, কাপাসিয়া রিপোর্টাস ইউনিটি, কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কাপাসিয়া রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে কাপাসিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে পুলিশ প্রশাসন, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। বিজয় মঞ্চে সালাম গ্রহণ করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. তামান্না তাস্নীম ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহীনুর আলম। দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শহিদ পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন নার্সিং কলেজে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয় ও কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও রুগীদের উন্নত মানের খাবার পরিবেষন করা হয়। বিকালে ক্রিকেট, ফুটবল খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
চান্দিনা : কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শহিদ মিনারে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে চান্দিনা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল হকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দিবসের পরবর্তী কর্মসূচিতে পৌরসভা মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তদের পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।