
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিনাজপুরে জমে উঠতে কোরবানি পশুর হাটগুলো। ভোর থেকেই দূর-দূরান্তের খামারি ও গৃহস্থরা তাদের লালন-পালন করা গবাদিপশু নিয়ে হাটে আসছেন। তবে হাটগুলোতে পশুর প্রচুর আমদানি থাকলেও সেই তুলনায় এখন পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম। অনেকেই এখন হাটে আসছেন মূলত পশুর দাম যাচাই করতে। তবে ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে আসা বেপারিরা পুরোদমে পশু কেনা শুরু করেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দিনাজপুরে চাহিদার তুলনায় রেকর্ডসংখ্যক উদ্বৃত্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে।
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬৮টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বড় পার্বতীপুর উপজেলার আমবাড়ী হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশি ও শংকর জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় গরুর বিপুল আমদানি হয়েছে। তবে হাটে আসা ক্রেতাদের সিংহভাগের নজর ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে।
বর্তমানে হাটগুলোতে দেশি ও শংকর জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের গরুর দেখা মিললেও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ ছোট ও মাঝারি পশুর দিকে। বাজারে আকারভেদে পশুর দামেও রয়েছে ভিন্নতা। হাটে ছোট জাতের গরু বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে মাঝারি জাতের গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ওজনে ভারী ও বড় জাতের সৌখিন গরুর ক্ষেত্রে দামের পরিধিটা বেশ বড়, যা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
হাটে গরু কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের কেউ কেউ পশুর দাম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অনেকের অভিযোগ, গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে অনেক স্থানীয় ক্রেতা জানান, বাড়িতে রাখার জায়গা না থাকায় তারা ঈদের মাত্র এক বা দুই দিন আগে পশু কিনবেন।
গোখাদ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে এবার পশু পরিচর্যায় খরচ অনেক বেশি হয়েছে বলে জানান খামারিরা। ফলে ক্রেতারা যে দাম হাঁকাচ্ছেন, তাতে উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে অনেক বিক্রেতা মনমতো দাম না পেয়ে গরু হাটে বিক্রি না করেই বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে হাটের পাশাপাশি কোরবানিকে সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাইরের জেলার বেপারিরা সরাসরি খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও পশুর দরদাম করছেন এবং পছন্দ হলে অগ্রিম কিনে নিচ্ছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরে এবার কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৩টি।
ফলে জেলায় এবার চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৬১টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলার কোরবানি পশুর চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাটে রয়েছে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। হাটে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধে মোটাতাজাকরণ করা গবাদিপশু যেন বিক্রি না হতে পারে, সে জন্য জেলার ৬৮টি পশুর হাটে আমাদের ৩৮টি বিশেষ মেডিকেল টিম নিয়োজিত রয়েছে। তারা নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করছে।